এস.এম.জয়,বগুড়া :বগুড়া শহরে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভ নষ্ট করার অভিযোগে মোঃ প্রিন্স মাহমুদ (৩৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এক ১৯ বছর বয়সী তরুণী। মামলার বাদী, যার নাম প্রতিবেদনের গোপনীয়তার স্বার্থে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো (বৃ), বর্তমানে ফুলবাড়ী বিসিকের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ মাস পূর্বে প্রিন্স মাহমুদ, পিতা: মোঃ আব্দুর রশিদ, সাং ঝোপগাড়ী, বর্তমান সাং-নামাজগড়, এর সাথে বাদী তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে আসামী প্রিন্স মাহমুদ বিবাহের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরার নাম করে হোটেলের মতো স্থানে নিয়ে গিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর ফলে তরুণীটি গর্ভবতী হয়ে পড়েন।
তরুণী যখন প্রিন্স মাহমুদকে তার গর্ভবতী হওয়ার কথা জানান, তখন আসামী তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং সন্তান নষ্ট না করলে বিবাহ করবেন না বলে ভয়ভীতি দেখান। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামী স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে এনে জোরপূর্বক তরুণীকে খাইয়ে তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করে দেয়।
সর্বশেষ, গত ১৩ই অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বগুড়া শহরের চারমাথাস্থ একটি হোটেলের ৬ষ্ঠ তলার ৬০৬ নং রুমে নিয়ে প্রিন্স মাহমুদ পুনরায় বিবাহের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এরপর তরুণী তাকে বিবাহ করার জন্য চাপ দিলে আসামী তা অস্বীকার করেন।
এই মামলায় প্রিন্স মাহমুদ ছাড়াও তার স্ত্রী মোছাঃ মিম বেগম (৩৭) কে ২নং আসামী করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২নং আসামী মিম বেগম অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীদের সাথে নিয়ে বাদী এবং তার পরিবারের লোকজনকে গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এই বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা (মামলা নং-৬৭/২০২৫ ইং) দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

