ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
মো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, ফরিদপুর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে সদর উপজেলায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে মৃগী, কানাইপুর এলাকার সোনালী ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি উৎপাদিত চানাচুরের জন্য বিএসটিআইর সিএম লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়াই বিক্রয় ও বিতরণ করায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১/৩১ ধারা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত অননুমোদিত রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া বিসিক শিল্পনগরী, কানাইপুরের শ্রী কৃষ্ণ ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ (আপন ফ্লাওয়ার মিল) উৎপাদিত আটা ও ভুষি পণ্যে সিএম লাইসেন্স ছাড়াই বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(১)/২৭ ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে বিএসটিআইর লাইসেন্স গ্রহণের আবেদন না করে কোনো পণ্য বাজারজাত করবে না মর্মে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
অন্যদিকে, বসুনরসিংহদিয়া, কানাইপুরের জামিয়া ফুড প্রোডাক্টস-এ উৎপাদিত চানাচুর ও বিস্কুটে ব্যবহৃত রঙের পরীক্ষণ প্রতিবেদন না থাকা, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় রং ব্যবহার এবং খাদ্যস্থলে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রেড ও বিস্কুট সংরক্ষণের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই ফরিদপুরের ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন এবং পরিদর্শক (মেট) মো. খালিদ হাসান।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

