সিনিয়র সহকারী জজ রনি এর বিচারিক কৌশলে বিরোধ নিষ্পত্তির আঁতুড় ঘর শেরপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস

Share the post

আকিব হৃদয়, নিজস্ব প্রতিবেদক: উন্নত বিশ্বে এখন আদালতে মামলা করার চেয়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই ধারণা সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আইনমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে এডিআর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে আদালতের সহায়ক শক্তি হিসেবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলো সাধারণ বিচারপ্রার্থী জনগনের ধারণাকে আমূল পাল্টে দিচ্ছে। ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে আর্থিক অজ্ক্ষমতা যেন বাধা হতে না পারে সেজন্য বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড সেবার পাশাপাশি সমাজের যেকোন নাগরিক বিকল্প পদ্ধতিতে আপোষযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির বা এডিআরের জন্য আবেদন করতে পারেন অত্র অফিসগুলোতে। সাধারণ বিচারপ্রার্থী জনগন এমনকি যে কোন ব্যক্তি অবাক হয়ে যান যে, কিভাবে এত দ্রুততম সময়ে বিনা খরচায় প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।মানুষ আগে যেমন ভাবতো মামলা-মোকদ্দমা মানেই বছরের পর বছর আদালতে সময় ও অর্থের অপচয় তাদের এ ধারনাটিকে বদলে দিয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস,শেরপুর। এটি এখন সমাজের ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের মানুষের বিরোধ মীমাংসার প্রাণকেন্দ্রে রুপ নিয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস,শেরপুর বিনামূল্যে আর্থিকভাবে অসহায়,অসচ্ছল বিচার প্রার্থীগনকে সকল ধরনের আইনি সেবা নিরলসভাবে নিশ্চিত করে আসছে।দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলায়,বাদী কি বিবাদী, ফরিয়াদি কি আসামী যেকোন পক্ষ যদি আর্থিক ভাবে অসহায়,অসচ্ছল হন এবং আইন নির্ধারিত কতেক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনি বিনামূল্যে আইনি সেবা তথা লিগ্যাল এইড পাবার অধিকারী।

বিনামূল্যে আইনি সেবার মধ্যে রয়েছে-আইনজীবীর ফি পরিশোধ, মামলার সাথে প্রাসঙ্গিক ব্যায় পরিশোধ, ডিএনএ টেষ্টের ব্যয় পরিশোধ, বিনামূল্যে ওকালতনামা সরবরাহ,পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যয় সহ আইনানুমোদিত অন্যান্য ব্যয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস,শেরপুর হতে জানা যায়,করোনার অতিমারী কালেও বিগত এক বছরে অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল ২০২০ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত সরাসরি মামলার জন্য মোট আবেদন পড়েছে ৩৪৫ টি, মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৫ টি, বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৮৩ টি, নথিজাত হয়েছে ৮৩ টি, অপেক্ষামান রয়েছে ১০৩ টি, পরামর্শ প্রদান করা হয় ৭৪২ জনকে,বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি তথা এডিআর এর ফলে বিচারাধীন বা চলমান মামলা নিষ্পত্তি ২৪২ টি হয়েছে।বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর এর মাধ্যমে মোট ২,৫০,৪৭,৬৫০/- (দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা আদায় করে পক্ষগণের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যক্তি সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছেন। শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ.কে.এম মোসাদ্দেক ফেরদৌসী জানান, বর্তমান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মহোদয় যোগদানের পরবর্তীতে শেরপুর বিচার বিভাগে আগত মানুষের দ্রুততম সময়ে বিনামূল্যে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।অত্র সমিতির বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযাদ্ধা মোখলেসুর রহমান আকন্দ জানান,লিগ্যাল এইড বিচারক মহোদয় সাংঘর্ষিক দুটো পক্ষকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এক সুতোয় গেথে বিরোধ অভাবনীয় ভাবে অতি দ্রুত নিষ্পত্তি করেছে দিচ্ছেন।যা অকল্পনীয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস হতে সেবা নিয়েছেন কথা হয় বেশ কয়েকজনের সাথে। তার মধ্যে একজন বেগম কামরুন্নাহার জানান, বিভিন্ন জায়গা ঘুরেও আমি আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাচ্ছিলাম না। লিগ্যাল এইড স্যার মাত্র দুইটি তারিখে বসে আমার সকল সমস্যার সমাধান করে দিছেন। আমি কখনো ভাবিনি এত দ্রুত বিনামূল্যে আইনি সেবা পাব। অপর একজন সেবা গ্রহীতা রুবেল জানান,তাদের আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ এবং এ নিয়ে দেওয়ানী-ফৌজদারী মোট ৩টি মামলা।

লিগ্যাল এইড অফিসে বসে শেষ হলো সকল সমস্যা। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) মোঃ জুলফিকার হোসাইন রনি জানান,আমাদের শত সীমাবদ্ধতা সত্বেও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি,শেরপুরের সভাপতি এবং জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন মহোদয়ের এর সার্বিক দিকনির্দেশনায়, শেরপুর আদালতের প্রত্যেক বিচারকের আন্তরিক সহযোগীতা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা আইনজীবী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস শেরপুরের কার্যক্রম। বিনামূল্যে আইনি সেবার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী জনগনের মাঝে দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।যার সুফল পাচ্ছে বিরোধে জড়িত পক্ষগণ তথা ন্যায়বিচারপ্রার্থী শেরপুরবাসী। আমরা শেরপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় সভা-সেমিনার-গণশুনানির মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে বিনামূল্যে লিগ্যাল সেবা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর সম্পর্কে আপামর জনসাধারনকে অবহিত করতে সমর্থ হয়েছি।এমনকি আমরা প্রায় সকল ইউনিয়নে এ সেবা সম্পর্কে সকলে অবগত করতে পেরেছি। যা আমাদের কাজের সফলতার পিছনে অন্যতম ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে দাবী করি।তিনি আরো জানান-সেবা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটিগুলো সক্রিয় করা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও প্যানেল আইনজীবীদের সাথে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মহৎ সেবা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]