স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী ও আমাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
মোঃ শাহ্ নেওয়াজ মজুমদার,হেড অব অপারেশন,ড্যাফোডিল ইনসটিটিউট অব আইটি, চট্রগ্রাম: বাংলার স্বাধীনতার মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমানের জন্ম শত বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যে দিয়ে আমরা ২৬ শে মার্চস্বাধীনতার সুর্বন জয়ন্তী উদযাপন করছি । এবারের মার্চ এসেছে একনতুন প্রত্যাশা নিয়ে। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন বাঙ্গালির মুক্তির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান তারহাত ধরেই বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়া। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরি জননেত্রীশেখ হাসিনার হাত ধরে আসে বাঙ্গালী জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বচ্ছলতা।স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত
সুপারিশ।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের বছরে এই সুপারিশজাতিকে উচ্ছাসিত করেছে । স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই প্রাপ্তি বিরাট অর্জন, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মুজিব বর্ষ উদযাপন। আমাদেরঅর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা জানান দিচ্ছে গোটা পৃথিবীকে।আজ আমাদের মহান নেতার জন্মদিনে সমগ্র পৃথিবীর তাবৎ বড়বড়মোড়লরা জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকীর উৎসবে সামিল হয়েছেনবঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে শুভ কামনাজানিয়ে।বর্তমান প্রজন্মের কাছে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাএকসাহসী যোদ্ধার নাম,যার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় ভবিষ্যতেরবাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলেছে। আসলে ২৬ মার্চ ২০২১বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতিসংঘ কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতিঅর্জিত হয়েছে। ওই দিন স¦ল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকেউন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্টপলিসির (সিডিপি) চুড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশহিসেবে ঘোষিত হবে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের তিনটি শর্ত ছিল-মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলারে রাখা,মানব সম্পদ সূচকে ৬৬ পয়েন্ট ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতার সূচকে ৩২ বানিচে আনা। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ তিনটি শর্ত পূরন করেএসেছে। ২০২০ সালেবাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার,মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৭৫.৩ এবং অর্থনৈতিকভঙ্গুরতা সূচকে ২৫.২। উল্লেখ্য প্রতি তিন বছর পরপর জাতিসংঘেরসিডিপি এলডিসি গুলোর ত্রিবার্ষিক মুল্যায়ন করে থাকে। মাথাপিছুআয়, মানব সম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এই তিন সূচকদিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল হতে পারবে কিনা, সেই যোগ্যতামুল্যায়ন করা হয়। যে কোনো দুটি সূচকে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়কিংবা মাথাপিছু আয় নির্দিষ্ট সীমার দ্বিগুন করা লাগে। সিডিপিরপরপর দুইমুল্যায়নে এসব মান অর্জন করলেই এলডিসি থেকে বের হওয়ার চুড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
যুদ্ধ বিধ¦স্ত দেশ থেকে আজকের এই উন্নয়নশীল দেশে উত্তরন যেখানেরয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস, যেখানে রয়েছে বর্তমানসরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের একটি বড় অর্জন। এটি সম্ভবহয়েছে আমাদের জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শীনেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়নের কৌশলগ্রহনের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কাঠামোগত রূপান্তরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রæত উন্নয়নের পথেনিয়ে এসেছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হওয়ারলক্ষ্য নির্ধারন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।জাতির পিতার অধুনা স্বপ্ন বাস্তবায়নে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা এমডিজিঅর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি,দারিদ্রসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জন,রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প,ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি সহ নানা অর্থনৈতিক সূচক, পদ্মা সেতু,রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল সহদেশের মেঘা প্রকল্প সমুহ। আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই প্রাপ্তিএকটি বিরাট অর্জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহবান,আসুন দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

