রায়পুরের বিভিন্ন দোকানে প্রকাশ্যে ই-সিগারেটের বেচাকেনা, ক্রেতা উঠতি বয়সী তরুণরা
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স, চশমা ও ঘড়ির দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ই-সিগারেট বা ভেপ। দোকানের সামনে ও শোকেসে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ফ্লেভারের ই-সিগারেট সাজিয়ে রাখা হলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
সম্প্রতি সরেজমিনে রায়পুরের বিভিন্ন বাজার ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, ইলেকট্রনিক্স, চশমা ও ঘড়ির দোকানসহ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের ভেপ ও ই-সিগারেট প্রকাশ্যে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানে আসা ক্রেতাদের মধ্যে উঠতি বয়সী তরুণদের উপস্থিতিই বেশি বলে জানিয়েছেন কয়েকজন দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দা। বিভিন্ন ফল ও মিষ্টি জাতীয় ফ্লেভারের নামে এসব পণ্য তরুণদের আকৃষ্ট করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বয়স যাচাই ছাড়াই তরুণদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ধূমপানে আসক্ত হওয়ার পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভেপিংয়ের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ই-সিগারেটকে অনেক সময় সাধারণ সিগারেটের তুলনায় নিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর বাষ্পে নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের ক্ষেত্রে নিকোটিন মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণগত স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া ভেপিংয়ের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। ভেপের বিভিন্ন ফ্লেভার ও আকর্ষণীয় ডিজাইন তরুণদের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফ্লেভার’ বা সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় কোনো ই-সিগারেট স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। বরং এসব আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য তরুণদের নতুন করে নিকোটিন গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আগে এসব পণ্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সীমিতভাবে পাওয়া গেলেও বর্তমানে বিভিন্ন সাধারণ দোকানেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। দোকানের শোকেসে সাজিয়ে রাখার কারণে কিশোর-তরুণদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, ‘‘তরুণদের হাতে যখন প্রকাশ্যে এসব পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়, তখন অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মিত বাজার তদারকি করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।’’
সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তাদের মতে, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে ই-সিগারেট প্রদর্শন ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তারা আরও বলেন, কোনো পণ্য তরুণদের কাছে সহজলভ্য হয়ে গেলে সেটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরুতেই বাজার পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ই-সিগারেট বা ভেপ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে এ ধরনের পণ্য বিক্রির অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বাজারে কোনো দোকানে নিষিদ্ধ বা আইনবহির্ভূত পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, রায়পুরের বিভিন্ন বাজারে ই-সিগারেটের বিক্রি ও প্রদর্শনের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোন দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, কারা কিনছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিননির্ভরতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করেও এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

