মতিহার্ট মেঘনা তীরের জেলেদের হাহাকার মাছশূন্য নদীতে থমকে গেছে জীবনের চাকা

Share the post
কবির হোসেন রাকিব,লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ১নং চর কালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর জেলেদের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তায়। সরেজমিনে জেলেদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে নদীতে মাছ না থাকার করুণ বাস্তবতা, যা তাদের জীবন-জীবিকাকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন জেলেরা। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে, স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে সন্ধ্যায় ঘরে ফেরেন কিন্তু হাতে থাকে না মাছ, থাকে শুধু শূন্যতা আর হতাশা। এক সময় যে মেঘনা নদী ছিল তাদের একমাত্র ভরসা, আজ সেই নদীই যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
জেলেদের ভাষায়, মাছ না থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দোকানে বাকি, এনজিও ও মহাজনের ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই জানালেন, নদীতে গেলেও জাল ওঠে ফাঁকা খরচ হয় তেল, সময় ও শ্রম আয় হয় শূন্য।একজন জেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,নদী ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। মাছ না থাকলে আমরা কী করে বাঁচব? পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
জেলেদের দাবি, নদীতে মাছ কমে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে—নদী দূষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। তবে তারা বলেন, যে কারণই হোক, এর দায়ভার আজ তাদেরই কাঁধে এসে পড়েছে।
মতিহার্ট মেঘনা তীরের জেলেদের চোখে এখন শুধুই প্রশ্নএই দুঃসময়ে তাদের পাশে কে দাঁড়াবে? নদীর মতোই তাদের অপেক্ষা দীর্ঘ, আশার স্রোত এখনো অনিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যার্তদের মাঝে চিকিৎসাপত্র, ওষুধ ও খাবার বিতরণ

Share the post

Share the postবি এম আবুল হাসনাত বাপ্পী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, ছনুয়া ইউনিয়নের শেখ মঙ্গলঘাটা, কুদুকখালী ইসলামিয়া তাহফিজুল কুরআন বালক-বালিকা মডেল মাদরাসা ও বাইতুল জামে মসজিদের পাশের আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকার সহস্রাধিক বন্যার্তকে চিকিৎসাপত্র, ওষুধ ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গত ২১জুলাই মঙ্গলবার ও ২২জুলাই বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য […]

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সপ্তাহে ৪ দিন রোস্টার উনুযায়ী ছুটি কাটান তিন চিকিৎসক

Share the post

Share the postশফিকুল বারী,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের তিন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার পরিবর্তে তারা নিজেদের মধ্যে রোস্টার করে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি সময়ে কেউ সিলেটে, আবার কেউ সুনামগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ […]