মির্জা তুষার আহমেদ,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকায় দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যমানের একটি প্রাচীন কষ্টি পাথরের মূর্তি।গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ খঞ্জনপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ২৫১ এমপি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খঞ্জনপুর ঈদগাহ মাদ্রাসা মোড় সংলগ্ন একটি আম বাগানের পাশে দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি বিক্রির গোপন সংবাদ পায় বিজিবি।
খবরের ভিত্তিতে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোঃ হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ টহলদল ক্রেতা সেজে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা ২২ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের কষ্টি পাথরের মূর্তিটি ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে অধিনায়কের নির্দেশনায় বিশেষজ্ঞ স্বর্ণকারের মাধ্যমে নাইট্রিক এসিড ও স্বর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটি অত্যন্ত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত করা হয়। জুয়েলারী সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকারদের মতে, উদ্ধারকৃত মূর্তিটির বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকারও বেশি।
এছাড়া আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, নওগাঁ-এর কাস্টোডিয়ানের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে মূর্তিটিকে ১১ থেকে ১২ শতকের অত্যন্ত প্রাচীন ও দুষ্প্রাপ্য প্রত্নসম্পদ হিসেবে শনাক্ত করেন।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা বিজিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের এই ধরনের প্রত্নসম্পদ শুধু আর্থিকভাবে নয়, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এসব সম্পদের অবৈধ পাচার রোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্তীয় অপরাধ দমনে পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

