বিয়ানীবাজার সীমান্তে মসজিদ সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্ব
সিলেটের বিয়ানীবাজার সীমান্তে ২শ’ বছর পুরনো মসজিদ সংস্কার নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ। বিএসএফের বাধার কারণে গজুকাঁটা জামে মসজিদের সম্প্রসারিত ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে চেষ্টা চলছে।
১৮২০ সালে নির্মিত গজুকাটা জামে মসজিদ সংস্কারের অভাবে ধসে পড়ার উপক্রম হয়। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে নামাজিদের ওপর। এমন অবস্থায় মসজিদ চত্বরে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেন গ্রামবাসী।
মসজিদ কমিটির সদস্য এক সদস্য জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে অনুমতি পেয়ে আমরা সংস্কারের উদ্যোগ নিই। বিএসএফ এসে বলে আর একটা ইট যদি লাগাবে কাজ করবে তাহলে তোমাদের আক্রমণ করবো।
মসজিদ কমিটির অপর সদস্য জানান, পুরনো মসজিদের ওয়ালের ভেতরে আমরা মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। এরপর মসজিদের ভিত্তি তৈরি করা হলে বিএসএফ এসে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৩৫৭ পিলার বাংলাদেশ অংশে মসজিদ সংস্কারে বিএসএফ বাধা দিয়ে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে ২০ ফুটের মধ্যে বাঙ্কার নির্মাণ করে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সিলেট বিয়ানীবাজার দোবাগ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আবেদিন জানান, কোনো অবস্থাতেই ছাদ ঢালাই করা যায়নি। আমরা বর্তমানে নারী পুরুষ মিলিয়ে আতঙ্কে আছি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় এনে মসজিদের সংস্কার কাজে পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে বিজিপির ৫২ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে চেষ্টা চালানোর কথা জানালেন।
৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল বশাহ আলম সিদ্দিকী জানান, এ ব্যাপারে বিএসএফের সঙ্গে আমাদের একাধিক ফ্লাগ মিটিং হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যার সমাধানের।
১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী দেড়শ গজের ভেতরে কোনো বাঙ্কার বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করার সুযোগ নেই। প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি নামাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এই ক্যাম্পাসের ভেতরেই মসজিদের আরেকটি অংশ সম্প্রসারণ কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বিএসএফের বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

