সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : যারা কম মিষ্টির রসগোল্লা খেতে পছন্দ করেন, তারা এই টক মিষ্টি ঝাল মরিচ রসগোল্লার প্রধান ক্রেতা। নেত্রকোণায় বালিশ মিষ্টির পাশাপাশি ঝড় তুলতে এসেছে সবুজ রঙের টক ঝাল মিষ্টি রসগোল্লা।
নেত্রকোণা পৌর শহরে আরামভাগ রোডে অতি পরিচিত দুর্গা কেবিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই কাচা মরিচের গোল্লা তৈরি করে মানুষের নজর কেড়েছে।
জানা যায়, রসগোল্লার ছানার সঙ্গে কাচা মরিচ মিশিয়ে চিনির শিরায় ডুবানো হয় এবং তৈরী করা হয় সবুজ রঙের রসগোল্লা। তবে ছানার সঙ্গে কাচা মরিচ যোগ করার পর এই রসগোল্লা যে ভীষন ঝাল হয়, তা নয়।
ছানার সঙ্গে কাচা মরিচ মিশিয়ে ছেনে গোল গোল করে গোল্লা বানিয়ে চিনির শিরায় ডুবানো হয় বিশেষ এ রসগোল্লাকে। তারপর কেজি বা পিস অনুসারে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ৫০০ টাকা ও প্রতি পিস ৫০ টাকায়।
অভিনব এ রসগোল্লা মুখে দিলে প্রথমে মিষ্টি তারপর ঝাল ও টকের স্বাদ পাওয়া যায়, সাথে পাওয়া যায় কাচা মরিচের ফ্লেভার। আর এর স্বাদ নিতে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজানি হলে চাহিদা বাড়তে থাকে। তবে নতুন ধরনের মিষ্টি হওয়ায় সব শ্রেনীর ক্রেতাই এখন এ মিষ্টি পছন্দ করছেন বলে জানা গেছে। শুধু মাত্র মরিচ দেওয়ার কারনে এটা ভিন্ন ফ্লেভার কাজ করে।
কারিগর মাজহারুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কোন সবুজ রং ব্যবহার করা হয়নি। এক কেজি রসগোল্লা তৈরি করতে ১ কেজি ছানার সঙ্গে ২০০ গ্রাম কাচা মরিচ পিষে মিহি করে মেশানো হয়, এতেই মিষ্টির সবুজ রংটা চলে আসে। ময়দা দেড়শত গ্রাম, সূজি ৫০ গ্রাম ও চিনি ৩ থেকে ৪ কেজি লাগে। আর একটি মিষ্টি বানাতে ৩০ গ্রামের মত চিনি লাগে।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ভজন বলেন, এই রসগোল্লা নেত্রকোণায় প্রথম আমরাই তৈরি করা শুরু করেছি। এক মাস পূর্বে ‘প্রথমে আমরা এই মিষ্টি পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি শুরু করি। তবে এ কয়দিনে মিষ্টির চাহিদা বাড়ছে অনেক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মিষ্টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি কেজি ৫ শত টাকা ও পিস প্রতি মিষ্টি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
এটার চাহিদা অন্য সব রসগোল্লার চেয়ে একটু বেশী। যতদিন যাচ্ছে এর চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং সাথে কাচা মরিচের রসগোল্লার বিক্রিও বেড়েছে।
এসময় কাচা মরিচের রসগোল্লা ক্রেতা
নেত্রকোণা পৌর শহরের মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা হামিদুর রহমান বলেন, প্রথমে আমি কাচামরিচের রসগোল্লার নাম শুনে খেতে ভয় পেয়ে ছিলাম। প্রচন্ড জাল হবে মনে হয়। কিন্তু না স্বাদ একটু আলাদা। ফ্লেভার টা কাঁচা মরিচের অল্প ঝাল ও টুক-মিষ্টি রসে ভরপুর।’
উপস্থিত আরেক জন ক্রেতা শান্তা চৌধুরী সৃতি মণি জানান, আমি ফেইসবুকে একটা পেইজ থেকে জানতে পেরে মিষ্টিটা টেস্ট করতে গিয়েছিলাম, আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও অনেক মজার ছিলো।

