একদিনে সর্বোচ্চ ৭৪ মৃত্যু

Share the post

দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। আজ করোনায় আক্রান্ত ৭৪ জন মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু ৯ হাজার ৫২১ জনে দাঁড়ালো। গতকাল মৃতের সংখ্যা ছিল ৬৩ জন। এর আগে, গত মঙ্গলবার করোনায় দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

তবে শনাক্তের সংখ্যা কমেছে। একদিনে আরো নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৮৫৪ জন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৩২ জন।বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অরিতিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনা বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৪৩টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১২১টি, জিন-এক্সপার্ট ৩৪টি, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন ৮৮টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৩ হাজার ৩২৮ জনের। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৮ জনের।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গতবছর ৮ মার্চ। সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের উপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। মাস দুয়েক সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর গত নভেম্বরের শুরুর দিক থেকে আবার শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হয়। ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে। মার্চের শুরু থেকে তা আবার ঊর্ধ্বমুখি হয়েছে।

গত বছরের ৪ এপ্রিলের পর ৯ জানুয়ারি সর্বপ্রথম শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ঘরে নামে। এরপর ১৭ জানুয়ারি তা ৪ শতাংশে নেমে আসে। তার পরের দুদিন সামান্য বেড়ে ৫ শতাংশ হয়। ২০ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শনাক্তের হার থাকে চার শতাংশে। যদিও এর মাঝে একদিন এই হার ৩ শতাংশে নামে। এরপর ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার হয় যথাক্রমে ২.৯২ ও ২.৭৯ শতাংশ। ৬ ফেব্রুয়ারি সেই শনাক্তের হার হয় ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি শনাক্তের হার গত দশ মাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়ায়। ৫ মার্চ এসে শনাক্তের হার বেড়ে আবার ৪ শতাংশের ঘরে ওঠে।

এরপরই ৯ তারিখ থেকে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এরপর ১৪ মার্চ শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৭.১৫। পরদিন শনাক্তের হার বেড়ে হয় ৯.৪৮। ১৬ তারিখে দাঁড়ায় ৮.২৯ শতাংশে। ১৮ মার্চ তা বেড়ে হয় ১০.৪৫। যা গত চার মাসে সর্বোচ্চ। দৈনিক শনাক্তের হার সর্বশেষ এর চেয়ে বেশি ছিল গতবছরের ২৭ ডিসেম্বর। সেদিন পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গতবছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। এবং গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের তিন মাস পর ১৮ জুন তা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এক মাস পর ১৮ জুলাই শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখে। এর পরের এক লাখ রোগী শনাক্ত হয় এক মাস নয় দিনে, ২৬ অগাস্ট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়ায় ৩ লাখ। ৪ লাখ ছাড়িয়ে যায় এর দুই মাস পর, ২৬ অক্টোবর। তা পাঁচ লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫৫ দিন। ২০ ডিসেম্বর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৭১৩ জনে।

গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন ঢাকার পাঁচ হাসপাতাল থেকে টিকা দেয়া হয় ৫০০ জনকে।৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]