ইউএনওর- ছবিসহ বুড়িমারীতে জুয়েলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ইউএনও কামরুন নাহারের দায়িত্ব অবহেলার তদন্তে গণবিজ্ঞপ্তি

Share the post

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নে গণপিটুনি দিয়ে আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা প্রশাসকের ২১ মার্চ স্বাক্ষরীত গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। আর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর। এর আগে গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়ার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।

তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে কোরআন অবমাননার অভিযোগে আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা ও পরে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা প্রাক্তন ইউএনও কামরুন নাহারের (পরিচিতি নং- ১৭৪৬৭) দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগের তদন্ত করা হবে। তাই ২৫ মার্চ সকাল ১১টায় ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সর্বসাধারণকে উপস্থিত থেকে তদন্ত কাজে সহায়তা করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন ডিসি আবু জাফর। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্য সম্পাদন করবেন বলেও জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরীত গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সাথে বিজ্ঞপ্তিটি ব্যাপক ভাবে প্রচার করতে পাটগ্রাম ইউএনও, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যানকে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। ডিসির জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির পত্র পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদ্য যোগদান করা পাটগ্রাম ইউএনও রাম কৃষ্ণ বর্মণ। গণবিজ্ঞপ্তি জারির সত্যতা নিশ্চিত করে ডিসি আবু জাফর বলেন, মন্ত্রপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক এটি একটি প্রশাসনিক তদন্ত। স্থানীয়রা জানান, আবু ইউনুস মো. সাহিদুন্নবী জুয়েল গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক জনকে সঙ্গে নিয়ে বুড়িমারী বেড়াতে আসেন। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে পাঠ করার জন্য মসজিদের সানসেটে রাখা কোরআন শরিফ নামাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কয়েকটি কোরআন ও হাদিসের বই তার পায়ে ওপর পড়ে যায়। সে সময় কোরআন ও হাদিস বই তুলে চুম্বনও করেন জুয়েল।

বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে যান। সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। সে সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় স্থানীয়রা। সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দফায় দফায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মহন্তসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর ও এসপি আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত জুয়েলের সঙ্গী সুলতান রুবায়াত সুমনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের চাচাত ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বাদী হয়ে হত্যাসহ পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার করা সবাই বুড়িমারী এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার কোনো সত্যতা পায়নি। গুজব ছড়িয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও পরে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন দু’টি তদন্ত কমিটির সদস্যরা। লালমনিরহাটে বড় ভাইয়ের কুড়ালের আঘাতে ছোট ভাই নিহত লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥ লালমনিরহাটের জালীগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বড় ভাইয়ের কুড়ালের আঘাতে ছোট ভাই আলকাত মিয়া (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে সন্ধ্যায় উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাই আলকাত মিয়ার (৪২) সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল বড় ভাই সোলেমান মিয়ার। ঘটনার দিন দুপুরে জমি নিয়ে কথাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের সরিয়ে দেন। পরে আবারও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কথাকাটির এক পর্যায়ে আলকাত মিয়ার মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বড় ভাই সোলেমান মিয়া। পরে আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়ে মৃত আলকাত মিয়ার ছেলে ও এক প্রতিবেশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]