জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা অজুহাতে গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। একই আবেদন দালালের মাধ্যমে জমা দিলে সহজেই গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবেদন জমা দেওয়ার কাউন্টারের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন। কিন্তু নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও রেকর্ড কিপার আব্দুল কুদ্দুসকে সোয়া ৯টাতেও কাউন্টারে পাওয়া যায়নি। একইভাবে পাসপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা উচ্চমান সহকারী আবু সাঈদও যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান গ্রাহকরা।
অফিসের আশপাশে থাকা একাধিক কম্পিউটার দোকানের সামনে দালালদের আনাগোনা চোখে পড়ে। আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন ছোটখাটো ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তবে দালালের মাধ্যমে গেলে সেই আবেদনই গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রফিক জানান, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘বাগবাটি’ লেখা থাকলেও পাসপোর্টের ফরমে ‘বাগবাটি হাটখোলা’ থাকায় সেটিকে ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এটি সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের তথ্য বলেও দাবি করেন তিনি।
মোবারক নামের আরেক আবেদনকারী বলেন, “যৌথ পরিবারের কারণে বিদ্যুৎ বিল বাবার নামে না থাকায় আমার আবেদন নেয়নি। তবে অতিরিক্ত টাকা দিলে কাজ হয়ে যেত।”
বেলকুচির মুস্তাফা বলেন, “নিজে করতে গিয়ে বারবার ঘুরেছি, কাজ হয়নি। পরে দালাল ধরলে সহজেই আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। নিজে করলে প্রায় ৬ হাজার টাকা লাগে, আর দালালের মাধ্যমে করলে লাগে ১০ হাজার টাকা।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মো. ইব্রাহিম বলেন, “ত্রুটিযুক্ত ফরম গ্রহণের সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের ভুল সংশোধন করে আনতে হবে। প্রয়োজনে আমাকে জানালে সমাধান দেওয়া হবে।”
দালালদের মাধ্যমে আবেদন সহজে গ্রহণ করা হয়—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এটি একটি ভুল ধারণা। কেউ যদি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে সাধারণ মানুষের দাবি, দালাল চক্রের প্রভাব বন্ধ করে স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

