সংকট থেকে সম্ভাবনায়: রিহ্যাবে মোকাররম হোসেন খানের নতুন ভিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাত আজ এক সন্ধিক্ষণে। একদিকে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও আবাসন চাহিদা, অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় এবং অর্থায়নের জটিলতা—সব মিলিয়ে এই খাতটি এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। ঠিক এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহলে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্বের এই দৌড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে একটি পরিচিত, অভিজ্ঞ ও আস্থাশীল নাম—মোকাররম হোসেন খান।
আগামী ১৫ তারিখের নির্বাচনে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রিহ্যাবের সাবেক সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার অতীত অর্জন এবং বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে তার সময়োপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সাধারণ সদস্যদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
অভিজ্ঞতার আলোকবর্তিকা ও নেতৃত্বের ভিত্তি
মোকাররম হোসেন খান কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি বাংলাদেশের আবাসন খাতের একজন দূরদর্শী পথপ্রদর্শক ও নীতিনির্ধারক। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত Capita Group এবং CapitaLand Development Ltd. আজ দেশের রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে গুণগত মান এবং আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিলাসজাত আবাসন থেকে শুরু করে আধুনিক বাণিজ্যিক স্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই তিনি আধুনিকতা, নান্দনিকতা ও স্থায়িত্বের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পের বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মোকাররম হোসেন খান বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের অন্যতম পথিকৃৎ। আবাসন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি দেশের আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক সফল সভাপতি।
কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা: ১৯৮৯ সালে তিনি ‘কনকর্ড কনডমিনিয়াম লিমিটেড’ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে শেয়ারহোল্ডার ডিরেক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কর্পোরেট নেতৃত্ব: তিনি ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের সাথে যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘ব্র্যাক কনকর্ড ল্যান্ডস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই নেতৃত্ব আবাসন খাতে আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং আবাসন খাতের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে একজন অগ্রজ প্রতিনিধি হিসেবে সমাদৃত।
রিহ্যাব ও দূরদর্শী নেতৃত্ব:
রিহ্যাবের নেতৃত্বে তার সময়কাল ছিল গঠনমূলক পরিবর্তনের এক অনন্য অধ্যায়। বিশেষ করে ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার চ্যালেঞ্জিং সময়ে তিনি যখন রিহ্যাবের হাল ধরেন, তখন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এই খাতের মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন যে—সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ নিশ্চিত করা ছাড়া এই খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তার সেই সময়ের দূরদর্শী দাবি ও প্রস্তাবনাগুলো আজও বাংলাদেশের আবাসন খাতের উন্নয়নের মূল এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সদস্যবান্ধব উদ্যোগ: একটি শক্তিশালী সংগঠনের রূপরেখা
মোকাররম হোসেন খান বিশ্বাস করেন, রিহ্যাব কেবল গুটিকয়েক বড় ডেভেলপারের সংগঠন নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি সদস্য প্রতিষ্ঠানের অধিকার রক্ষার ঢাল। তার বিগত নেতৃত্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি ছোট-বড় সব সদস্যের স্বার্থ রক্ষায় সমানভাবে সচেষ্ট ছিলেন।
তার এবারের নির্বাচনী ইশতেহার ও পরিকল্পনার মূলে রয়েছে “সদস্যবান্ধব রিহ্যাব” গড়ার অঙ্গীকার। তার প্রস্তাবিত কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে:
ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর ধারণা: বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে প্রকল্পের অনুমোদন নিতে যে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি হয়, তা দূর করতে একটি কার্যকর সমন্বয় সেল গঠন করা।
নীতিগত সহায়তা: রাজউক, সিডিএ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে আলোচনা করে ডেভেলপারদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
নেটওয়ার্কিং ও ব্র্যান্ডিং: রিহ্যাব সদস্যদের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে সংযোগ করিয়ে দেওয়া এবং মেলাগুলোর মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
বর্তমান সংকট ও মোকাররম হোসেন খানের ভিশন
বর্তমানে আবাসন খাত যখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন মোকাররম হোসেন খান তার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে একগুচ্ছ বাস্তবমুখী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তার ভিশনের প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:
১. সহজ ও সাশ্রয়ী হাউজিং ফাইন্যান্স:
তিনি মনে করেন, আবাসন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক অধিকার। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য সিঙ্গল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে জোরালো লবিং করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।
২. রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানোর সংগ্রাম:
বর্তমানে ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের উচ্চ ব্যয় সাধারণ ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করছে। মোকাররম হোসেন খানের মতে, “রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানো হলে লেনদেন বাড়বে, যা প্রকারান্তরে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।” তিনি এই খরচ যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
৩. সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ:
রিহ্যাবকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল এবং জবাবদিহিমূলক সংগঠনে রূপান্তর করা তার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি চান রিহ্যাব হবে এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিটি সদস্যের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাবে।
৪. ঢাকার বাইরে আবাসন শিল্পের সম্প্রসারণ:
শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, বরং বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে আবাসন শিল্পকে ছড়িয়ে দিয়ে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
একজন সফল উদ্যোক্তার জীবনদর্শন
মোকাররম হোসেন খানের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। দ্রুত মুনাফা অর্জনের চেয়ে তিনি সবসময় ‘টেকসই উন্নয়ন’ এবং ‘ক্রেতার সন্তুষ্টি’কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ক্যাপিটা গ্রুপ-এর মাধ্যমে তিনি যে করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন, তা রিহ্যাবের মতো একটি জাতীয় সংগঠনে প্রয়োগ করতে পারলে সংগঠনের পেশাদারিত্ব আরও বাড়বে বলে সাধারণ সদস্যদের ধারণা।
তার নেতৃত্বের বিশেষত্ব হলো—তিনি সংকটে বিচলিত হন না, বরং ধীরস্থিরভাবে সমাধানের পথ খোঁজেন। আবাসন খাতের বর্তমান অস্থিরতায় এই ধরনের শীতল ও অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক অত্যন্ত প্রয়োজন।
নির্বাচন: কেন মোকাররম হোসেন খান?
রিহ্যাবের আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি কমিটি গঠনের লড়াই নয়; এটি মূলত আবাসন খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের লড়াই। সাধারণ ভোটার ও আবাসন ব্যবসায়ীদের মতে, এই মুহূর্তে রিহ্যাবের এমন একজন নেতা প্রয়োজন যার সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং যিনি টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম।
তার সমর্থকদের দাবি—অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা এবং সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই তিনটি গুণের কারণেই মোকাররম হোসেন খান অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আবাসন খাতকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে তার মতো পরীক্ষিত নেতার বিকল্প নেই।
আগামীর প্রত্যাশা
সবশেষে বলা যায়, মোকাররম হোসেন খান এমন একজন প্রার্থী, যিনি অতীতের গৌরবময় অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের আধুনিক পরিকল্পনাকে একই সুতোয় গেঁথেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখান একটি সমৃদ্ধ আবাসন খাতের, যেখানে উদ্যোক্তারা নিরাপদে ব্যবসা করবেন এবং নাগরিকরা সাশ্রয়ী মূল্যে মাথার ওপর ছাদ পাবেন।
রিহ্যাবের আসন্ন নির্বাচন আবাসন খাতের জন্য এক নতুন ভোরের প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে। আর সেই ভোরের সারথি হিসেবে মোকাররম হোসেন খান সদস্যদের কতটা আস্থা জয় করতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ভোটাররা যদি অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখেন, তবে রিহ্যাব একটি নতুন ও শক্তিশালী নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে—এমনটা বলাই বাহুল্য।

