এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবারই সমান অধিকার :ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
তোবারক হোসেন খোকন,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি) উইমেন্স সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, সংবিধানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক, সবারই সমান অধিকার, কেউ ‘মাইনরিটি’ বা সংখ্যালঘু নই। নিজেদের সংখ্যালঘু ভেবে হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই; এমন ধারণা থেকে তরুণ প্রজন্মকে বেরিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলার জিবিসি শতরূপা ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত জিবিসি উইমেন্স সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই ছিল তার প্রথম কর্মসূচি।
জানা গেছে, ২০ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জিবিসি উইমেন্স সোসাইটির ‘সুবর্ণজয়ন্তী (৫০তম মহিলা ক্যাম্প)’ উদযাপিত হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে নারী সদস্যদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারীরা শিক্ষা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক চর্চায় সমানভাবে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি ফরাসি সেনাপতি নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে বলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।” জিবিসি‘র তরুণ-তরুণীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার পরামর্শ দেন সেইসাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাসও প্রদান করেন।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জিবিসি নেতৃত্বের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। “বাংলাদেশ একটি সুন্দর বাগানের মতো, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, গারো, হাজং, খ্রিষ্টানসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। আমি এই বাগানের একজন মালী হিসেবে আপনাদের সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই।” শুধু সামাজিক সম্প্রীতি নয়, তরুণদের জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও অত্যন্ত জরুরি। আত্মমর্যাদাবান ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই আগামী বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেন্ট্রাল উইমেন্স সোসাইটি (জিবিসি)-এর সভাপতি পা. সুলেখা ম্রং এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ (ফুলবাড়িয়া এপি) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস নম্রতা হাউই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিবিসির প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো, জিবিসির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, নারী সদস্য, তরুণ-তরুণীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে, ঐতিহ্যবাহী গারো নৃত্যের মাধ্যমে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিদের বরণ করে সুবর্ণজয়ন্তীর কেক কাটা হয়।

