ইবি প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্ণ বেতন ও ঈদ বোনাস পাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর বিপ্লববিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৭ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭১তম (সাধারণ) সভায় বিপ্লববিরোধী ভূমিকায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর থেকে তারা নিয়ম অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পেয়ে আসছিলেন।
পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্তকৃত ১৭ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্ণ বেতন ও ঈদ বোনাস প্রদানের জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্ণ বেতন এবং ঈদ বোনাস প্রদানের অনুমোদন দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা উপাচার্যের নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান; ইনফরমেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার; অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা; হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম; বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ ও অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন; হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরিন; ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম আক্তারুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মিয়া রাশিদুজ্জামান; অধ্যাপক ড. আফরোজা বানু; আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মণ্ডল ও অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল; মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল হক; আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন; ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান এবং সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জয়শ্রী সেন।
কর্মকর্তারা হলেন- প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন খান, ড. ইব্রাহীম হোসেন সোনা ও আব্দুল হান্নান; পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট; একই দফতরের উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম সেলিম; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শাখা কর্মকর্তা উকীল উদ্দিন; ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল); আইসিটি সেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জে এম ইলিয়াস; অর্থ ও হিসাব বিভাগের শাখা কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন; তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দফতরের উপ-রেজিস্ট্রার (ফটোগ্রাফি) শেখ আবু সিদ্দিক রোকন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদুর রহমান।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে ভূমিকা নেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে গত বছরের ১৫ মার্চ আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ, তথ্যচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটি সংশ্লিষ্টদের বিপ্লববিরোধী ও দমনমূলক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভায় ১৯ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

