ইবি প্রতিনিধি:পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-এর সদস্যদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সংগঠনসমূহ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন, সহ-সভাপতি নূর আলম, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলমসহ অন্যান্য সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম বলেন, “২২ ও ২৩ এপ্রিল সাংবাদিকদের ওপর যেভাবে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। একজন সাংবাদিক যখন মাঠে কাজ করেন, তখন তিনি কোনো দলের হয়ে নয়, সত্য ও তথ্যের পক্ষে কাজ করেন। অথচ সেই সাংবাদিকদেরই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় ধরনের হুমকির বার্তা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শাহবাগ থানা-র ভেতরেও এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নয়, বরং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সব ছাত্র সংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম বলেন,
“সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা বা বাধা সৃষ্টি করা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ইতিহাস রয়েছে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, কিন্তু কখনোই তাদের কণ্ঠ থামানো যায়নি। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সাংগঠনিকভাবে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও কঠোর অবস্থান নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দুঃসাহস দেখাতে না পারে। সাংবাদিকরা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। তাই দেশের সব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।”
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা মানে কেবল কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সত্য তুলে ধরেন, অন্যায়-অনিয়ম প্রকাশ করেন। সেই কণ্ঠরোধের চেষ্টা আসলে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের নয়, পুরো সমাজের জন্যই অশনিসংকেত।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিকদের দমন করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যই বিজয়ী হয়েছে ইতিহাস সেটাই বলে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি সাংবাদিক নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-এর অন্তত ১০ সদস্য আহত হন।

