সৈয়দ আব্দুস সালাম পান্না, সাতক্ষীরা: সাকক্ষীরা কৃষি উন্নয়নে খুলেছে নতুন এক দিগন্ত। একসময়ের তামাক নির্ভর এলাকার কৃষকরা এখন আশাবাদী আধুনিক কৃষির সম্ভাবনায়। চলতি আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ করেছেন, যা কৃষি খাতে পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিত।
আমন ধানের জন্য এ মৌসুমে ১৯,৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদারকি, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষকদের আগ্রহের ফলে আবাদ হয়েছে ১৯,৩৫৫ হেক্টর জমিতে। আধুনিক পদ্ধতিতে জমি আবাদের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনার প্রভাব এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এ মৌসুমে ২,৭০০ জন কৃষককে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে উন্নত জাতের ধান বীজ ও সার। প্রত্যেক কৃষক পেয়েছেন ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার। এই সহায়তায় ৩৬১ হেক্টর জমি এসেছে উন্নত চাষের আওতায়। কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এবার সময়মতো ভালো মানের বীজ ও সার পেয়েছি, তাই ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
শুধু আমন ধান নয়, সাতক্ষীরা তালা উপজেলা চলছে নানা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। উপজেলার ২৯টি ব্লকে ‘সজিনা গ্রাম’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে পুষ্টিগুণে সুজন সাহা সজিনা উৎপাদন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি, ৫৫০টি পরিবারে বস্তায় মরিচ চাষ এবং ১৪৫টি পরিবারে কেঁচো সার উৎপাদনের মতো কার্যক্রম কৃষিকে আরও টেকসই করে তুলছে।
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি নিশ্চিত করতে খামারি অ্যাপস এর মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি এলাকার হত দরিদ্র সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন সবজির বীজ, যা তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে গৃহীত হয়েছে নতুন উদ্যোগ। মৌসুমে তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বিকল্প ফসলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন পেলে কৃষকরা তামাকের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এছাড়া কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

