ফরিদপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড জন ভোগান্তির আরেক নাম
মোঃ সজল মন্ডল ফরিদপুর : ফরিদপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিদিনই নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তীব্র যানজটের কারণে। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা, আশেপাশের জেলা ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে।
কিছু বাস নির্দিষ্ট স্থানে না দাঁড়িয়ে এলোমেলোভাবে যাত্রী ওঠা-নামা করায় রাস্তার একপাশ বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রিকশার দখলদারিত্ব। যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো স্টপেজ না থাকায় সবাই মূল সড়কেই দাঁড়িয়ে যানবাহনে ওঠানামা করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ব্যবসা,বাণিজ্য ও দৈনন্দিন চলাফেরায় ভোগান্তি চরমে উঠেছে। জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকেও প্রায়ই আটকে পড়তে হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রায়ই দেখা যায় বাস ও গণপরিবহনের চালকরা রাস্তার মাঝেই যাত্রী ওঠা-নামা করাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, যথাযথ টার্মিনাল না থাকায় তাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। তবে তারা আশ্বাস দেন, প্রশাসন যদি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয় তাহলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যানজট নিরসনে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি, নতুন বাসস্ট্যান্ডে আলাদা যাত্রী নামানো-ওঠানোর স্থান নির্ধারণ।
ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর ভূমিকা ও নিয়মিত অভিযান।
অটোরিকশা ও ইজিবাইক পার্কিংয়ের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ।
যানজট নিরসনে এসব পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর না হলে ফরিদপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

