নেত্রকোনার বারহাট্টায় মৎস্য অধিদপ্তরের পুনঃ খনন প্রকল্প এখন দৃশ্যমান 

Share the post
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা প্রতিনিধি:  মৎস্য ও ধান নেত্রকোনার মানুষের প্রাণ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও বিল এবং  নদীগুলোর পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে যা এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে এই সমস্ত খাল ও নদীর নব্যতা হ্রাস পাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদী ও খাল গুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা সময়মতো তাদের কষ্টার্জিত বোরো জমিতে সেচ দিতে পারছিল না ও দেশীয় প্রজাতির মাছের সমারহ থেকে বঞ্চিত ছিলো, কিন্তু এখন তা শুধুই অতীত বতর্মানে খাল ও নদী খননের ফলে এখন প্রতিটি নদী ও খালে যথেষ্ট পরিমাণ পানি রয়েছে যা দিয়ে কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ ও পাবে সারা বছর।
এক সময় নদী ও খালগুলোতে পানির গভীরতা না থাকার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় সুস্বাদু মাছগুলো হারিয়ে যেতে বসেছিল বতর্মানে মৎস্য অধিদপ্তরের খননের ফলে তা এখন অতিত বললেই চলে। এক সময় ছিল অসংখ্য খাল নদী ও জলাশয় পানির প্রবাহ ব্যাপক থাকার কারণে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছের ভান্ডার ছিল প্রাণের নেত্রকোনা অঞ্চল।
আজ সেই অবস্থা থেকে অনেকটা সরে এসেছিল নদী ও খাল গুলো রক্ষনাবেক্ষণ আর তদারকির অভাবে।
কিন্তু বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকারের পরিকল্পনায় মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পরে হলেও সারাদেশে নদী, খাল, বিল ও জলাশয় এবং নদীগুলোতে খনন কাজ শুরু হওয়ায় আবারো নদী ও খালের পানির গভীরতা বৃদ্ধি পাবে ফলে কৃষকরা কৃষি কাজে যেমন উপকৃত হবেন পাশাপাশি মৎস্য ভান্ডার হিসেবে প্রতিটি নদী ও খালে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার মাছে আবারো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করছেন সুশীল সমাজের নাগরিকরা।
খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলাতেই দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদী ও খাল এবং জলাশয় গুলো পুঃনন খননের উদ্যোগ গ্রহন করছে মৎস‍্য অধিদপ্তর এরেই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় খনন প্রকল্প এখন সম্পুন্ন রূপে পুরোপুরি দৃশ্যমান।
চলতি বছর খাল ও নদী এবং জলাশয় গুলো সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নদী, খাল ও জলাশয় গুলো পুঃনন খনন করা হয়েছে। খননের ফলে পুরোপুরি আশাবাদী হয়ে উঠছেন বারহাট্টা উপজেলার সকল কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।
বারহাট্টা উপজেলায় নদী ও খাল এবং জলাশয়ে পুঃনন খননের  মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে আওতায় নদী ও খাল এবং জলাশয় গুলো খনন করা হয়েছে।
বারহাট্টা উপজেলায় নদী, খাল ও জলাশয়গুলো খনন কাজে চলতি অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের পুঃনন খনন প্রকল্পে ৮৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় ৪টি নদী ও খালের খনন কাজের মধ্যে সিংহ ভাগ জলাশয়ের খনন কাজ এখন দৃশ্যমান এবং ইতিমধ্যে রায়পুর ইউনিয়নে কলাভাঙ্গা খাল,চিরাম ইউনিয়নে কাউনাই গাড, বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে ধলেশ্বরী নদী, বারঘর খালের খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে যা পুরোপুরি এখন দৃশ্যমান। যার বরাদ্দ ছিল ৮৬ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা।
বারহাট্টা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহাম্মাদ বাবুল বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় বারহাট্টা উপজেলার যে কয়েকটি নদী,খাল ও জলাশয়ের পুঃনন খননের কাজ শেষ করেছে তা এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। এই নদী ও খাল গুলো খননের ফলে বারহাট্টা উপজেলার সব বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের চাহিদা বেড়েছে আর এখন এই মাছের দাম ও হাতের নাগালে বেতরেই রয়েছে। তিনি বলেন মৎস অধিদপ্তরের আওতায় এই নদী ও খাল গুলো পুঃনন খনন হওয়ার ফলে মৎস্য বিভাগ দেশীয় প্রজাতির মাছ বারহাট্টা উপজেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরে ও রপ্তানি করতে পারবে।
এ ব‍্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা সিনিয়র মৎস‍্য কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারাদেশের ন‍্যায় বারহাট্টা উপজেলার সকল নদী ও খাল এবং জলাশয় গুলো খনন করে নব‍্যতা ফিরিয়ে আনা,আর সেই লক্ষ্যে আমরা মৎস্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছি। যে নদী,খাল ও জলাশয় গুলোর খনন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল তা আমরা সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।আমরা মৎস্য বিভাগ আশা করছি এই নদী,খাল ও জলাশয় গুলো খননের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের সমারহ ঘটবে যা বারহাট্টা উপজেলাবাসী চাহিদা পূরণ করে দেশের অন‍্যন‍্যা জায়গায় মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে।
বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক কাশেম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে যতদিন থাকবে দেশ ততদিন নিরাপদে থাকবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ, এক কথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব‍্যবস্হা গ্রহণ করেছে। যেখানে আমরা বাজারে গিয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ খুব কম পেয়েছি কয়েকদিন আগেও,এখন বারহাট্টা উপজেলার বেশ কয়েকটি নদী,খাল ও জলাশয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় ৮৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে খননের পরে এখন তা দৃশ্যমান, এই নদী,খাল ও জলাশয় গুলো খননের পরে বারহাট্টার সব কয়েকটি বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের চাহিদা বেড়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের খনন প্রকল্পের পরে বাজারে এখন দেশীয় প্রজাতির মাছ সব সময়েই পাওয়া যায় সব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার অবদান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান কবীর এই প্রতিনিধিকে জানান, সারা দেশের ন‍্যায় নেত্রকোনা জেলাতে ও মৎস্য অধিদপ্তরের অধিনে এই বছর যে নদী,খাল ও জলাশয়ে পুঃনন প্রকল্পের খনন কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল তা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে যা এখন দৃশ্যমান। আর এই নদী,খাল ও জলাশয় গুলো খননের ফলে সারা বছর এখানকার মানুষ গুলো তাদের নিজেদের দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ করে তা জেলার বাহিরে ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]