৪৮ বছরেও খোঁজ মেলেনি সন্তানসহ অপহরণ হওয়া বিধবা নারী ওমেদার।
রাজু আহম্মেদ( নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি): স্বামীর বাড়ি থেকে বিধবা সুন্দরী নারী ও তার আট বছরের কন্যা সন্তানসহ অপহরণ হওয়ার ৪৮ বছর হলেও কোন রকমের সন্ধান না মেলায় তার স্বজনরা এখনও নিরবে কাঁদে। জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে (দিন তারিখ সঠিক ভাবে বলতে পারেনি) সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী গ্রামের হাজীপাড়ার মরহুম তছির উদ্দিন সরকারের স্ত্রী ওমেদা বেগম ও তার ৮ বছরের কণ্যা সন্তান পারুলকে বাড়ি থেকে গভীর রাতে মুখোশধারী অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে যায়। সে সময় বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ঘরে আটকে রেখে তালা বদ্ধ করে রেখেছিল।
এদিকে এ ঘটনার দীর্ঘ ৪৮ বছর হলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রকারের সন্ধান না মেলায় তার স্বজনসহ শুভ কাঙ্খীরা এখনো তার জন্যে নিরবে কাঁদে। এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা জানায়, ওমেদা বেগম অত্যন্ত সুন্দর ও একজন ভালো মনের নারী ছিল। এলাকাবাসী শ্রী রনজিত চন্দ্র রায় (৭৮), মর্জিনা বেগম (৮২), সাহিদা বেগম (৭২) তারা সকলেই জানায়, ওমেদা বেগম অত্যন্ত একজন ভালো মনের নারী ছিল। কারো সাথে কোনদিনও খারাপ আচরণ করেনি। বিধবা এই নারী ও তার সন্তানের জন্য এখনও আমরা নিরবে কাঁদি। ওমেদা বেগমের সতিন বুলবুলি (৭৮) বলেন, ওমেদা বেগম আমার সতিন হলেও আমরা দুইজন ছিলাম বোনের মতো। তিনি আমাকে ছোট বোন হিসেবে অনেক আদর করতেন। আমিও তাকে বড় বোন হিসেবে অনেক সম্মান করতাম। আমরা এক বাড়িতে ছিলাম। কোনদিনও আমাদের ঝগড়া বিবাদ হয়নি। আমার স্বামীও একজন ভাল মানুষ ছিল। কিন্তু আমার স্বামীর জায়গা জমি বেশি থাকার কারণে এলাকার কিছু খারাপ প্রকৃতির মানুষ আমার স্বামীর সম্পত্তি আৎসাত করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ওমেদা বেগমের পুত্র মোন্নাফ আলী সরকার বলেন, আমার মা ও বোন যেদিন অপহরন হয়েছে, আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি শহরে ছিলাম।
পরের দিন সকালে এসে শুনি আমার মা ও বোনকে অপহরণকারীরা তুলে নিয়ে গেছে। সে সময় আমি ১২ বছরে শিশু ছিলাম। বহুদিন আমার মাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি এবং কেঁদে কেঁদে বেরিয়েছি। এখনও আমি আমার মায়ের জন্য প্রতিনিয়ত কাঁদি।সেই সময় আমার ছোট মা বুলবুলি আমাদের লালন-পালন করেন।মোন্নাফ আলী বলেন অনেক কষ্টে আমি মানুষ হয়েছি।আমাদের মাথার উপর যে বট গাছ ছিলো আমার বাবা ও মা তাকে আমি ছোট বেলায় হারিয়েছি। শুধু তাই নয় মুক্তিযোদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের একমাত্র ভরসা আমার ছোট মা বুলবুলি সে-ও স্হানীয় রাজাকারের হাতে লাঞ্চিত সহ বীরাঙ্গনা নারীর কাতারের একজন বুলবুলি।

