হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ষড়যন্ত্রমূলক উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

Share the post

মোঃ ফায়েল খান (সন্দ্বীপ প্রতিনিধি): ১২ এপ্রিল ২১ ইং রোজ সোমবার মহামান্য হাই কোর্টের সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে রিট আদেশের বিপরীতে গোপনে ও একতরফাভাবে সন্দ্বীপ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মধ্যকার উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে ভুক্তভোগী ১২ লক্ষ সন্দ্বীপবাসি। মোঃ ফায়েল খান (সন্দ্বীপ প্রতিনিধি) বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং এর স্মারক ৩১.০৩.২৬১২.০৪.৩৩.০০৩.১৭-৪১২ এর অফিস আদেশে বলা হয় যে, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার সাথে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে সরেজমিনে পিলার নির্মাণের করতে। সেই মোতাবেক ১২ এপ্রিল ২১ ইং সোমবার সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচর ইউনিয়নের মধ্যভর্তি এলাকা বাংলাবাজারে সীমানা পিলার স্থাপন করেছে প্রশাসন। এতে উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ ও কোম্পানি গঞ্জের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ। যদিও সন্দ্বীপ উপজেলার স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিনিধিগণ এতে উপস্থিত ছিলেন না। যা সন্দ্বীপবাসিকে ব্যথিত করেছে।

১৯৮৫ সালের তৎকালীন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশবলে উড়িরচরকে সন্দ্বীপের ইউনিয়ন ঘোষণা করে সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা সন্দ্বীপের ৬০ মৌজার অংশ বিশেষ। তাছাড়া ভাসানচরসহ স্বর্ণদ্বীপ সন্দ্বীপের ৫৯০ বর্গমাইলের এলাকাভুক্ত হওয়ায় উক্ত সীমানা পিলার স্থাপন করায় প্রশাসন তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, যা সন্দ্বীপবাসীকে প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। অন্যদিকে অদ্য এই বিতর্কিত সীমানা পিলার স্থাপন করে প্রশাসনের এহেন হীন ও একতরফা কর্মকান্ডের ফলে সন্দ্বীপের ১২ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৮ লক্ষ নদী ভাঙ্গন কবলিত বাস্তুহারা সন্দ্বীপবাসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিবাদমূলক বক্তব্য এই যে, মহামান্য হাই কোর্ট আমাদের দায়েরকৃত রিটের আদেশে বলেছে যে, ১৯১৩-১৯১৬ সালের সি এস জরিপের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করতে, যাতে সন্দ্বীপের ৫৯০ বর্গমাইলের ভূমির চৌহদ্দি কার্যত সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আজ প্রশাসন সীমানা পিলার স্থাপন করে শুধু মহামান্য হাই কোর্টের আদেশের বিপরীতে কাজ করে নাই; বরং প্রশাসন তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে গোপনে ও একতরফাভাবে সন্দ্বীপ উপজেলা সীমানা পিলার স্থাপন করে উড়িরচরকে দ্বিখণ্ডিত করেছে, যা আমরা সন্দ্বীপবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। আমরা মনে করি প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটি অংশ সরকারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।

তাই সন্দ্বীপবাসি প্রশাসনের এহেন হীন কর্মের প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে সীমানা পিলার প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছে। প্রশাসনের এই ধরণের গভীর ষড়যন্ত্রমূলক একতরফা কর্মকান্ডের ব্যাপারে মহামান্য হাই কোর্ট ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পক্ষে, সন্দ্বীপ নদী সিকস্তি পুনর্বাসন সমিতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]