সেরা বাঙালির শতবর্ষ, উদযাপনে বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে থমকে ছিলো সব আয়োজন। গত এক বছর ধরে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধতা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন। তবে এত কিছুর মধ্যে দিয়েও বাঙালির জীবনে এল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
মুজিব জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুত সারা দেশ। এ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের মহড়া হয়ে গেলো জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্রায় ৫ হাজার দেশি-বিদেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ১০ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন।
আয়োজকরা বলছেন, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। এদিকে, বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধও, নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।
বর্ণাঢ্য এই আয়োজন মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কে কেন্দ্র করে। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে এ রকম বর্ণাঢ্য আয়োজন।
শিশু-কিশোরদের পরিবেশনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী তুলে ধরার হবে বুধবার সন্ধ্যায়। এতে অংশ নিবেন বাংলাদেশী শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পীরাও।
ভারতীয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধি চন্দ্রোদয় ঘোষ বলেন, বাংলাদেশকে আমরা অভিন্ন মনে করি না ভারতবর্ষের থেকে। আমাদের ভাষা এক সমস্ত কিছু এক এবং মানুষ হিসাবে আমাদের পরিচিতি শিল্পী। আর শিল্পীর কখনো জাত হয়না, তার কোনো ধর্ম হয়না এবং তার কোনো বর্ণও হয়না।
উপমহাদেশের নৃত্যশিল্পী মমতা শংকর বলেন, নাচ-গান, বাজনা এসবের কোন ভেদাভেদ নেই। তবে প্রত্যেকের এক একটা আলাদা চরিত্র এবং সক্রিয় একটা বৈশিষ্ঠ্য থাকতে পারে কিন্তু কোথায় যেন সুর বা মনের ভাষাটা যেন এক।
দশ দিনের এই আয়োজনে প্রতিদিনই থাকবে ভিন্ন থিমের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রায় ৫০০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর জানান, প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিদেশী শিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে। যেমন জাপানের অংশগ্রহণ থাকবে, নেপালের অংশগ্রহণ থাকবে, ভারতের থাকছে দুইদিন।তাছাড়া ২৬ শে মার্চ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন এবং সেটি পরিবেশন করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানাবেন পাঁচ দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা। এ উপলক্ষে ধুয়েমুছে ও সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে এর চারপাশ।
আগামীকাল বর্ণাঢ্যভাবে শুরু হচ্ছে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা
ঢাকা, ১৬ই মার্চ ২০২১ (০২রা চৈত্র ১৪২৭):
আগামীকাল ১৭ই মার্চ ২০২১ ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্যভাবে শুরু হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মালদ্বীপের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্।
১৭ই মার্চ ২০২১ থেকে ২৬শে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে প্রতিদিন পৃথক থিমভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অডিওভিজুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। আগামীকালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের থিম ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’।
শিশুশিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং এর পরপরই শত শিশুশিল্পীর সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হবে। মুজিববর্ষের থিম সং-এর মিউজিক ভিডিও পরিবেশনার পর বিমানবাহিনী কর্তৃক ফ্লাই পাস্টের রেকর্ডকৃত ভিডিও প্রচার করা হবে। স্বাগত সম্ভাষণ দেবেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য অংশে প্রচারিত হবে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, কানাডার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা’র ধারণকৃত ভিডিও বার্তা। চীনের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের উপহারস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য প্রদানের ভিডিও প্রচারিত হবে এই অনুষ্ঠানে। সম্মানিত অতিথি মালদ্বীপের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্’র বক্তব্য প্রদানের পর বক্তব্য দেবেন প্রধান অতিথি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা-স্মারক উপহার প্রদানের পর সভাপতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব সমাপ্ত হবে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে ‘ভেঙেছ দুয়ার এসেছো জ্যোতির্ময়’ থিমের উপর ভিত্তি করে নির্মিত অডিও-ভিজ্যুয়ালে ফুটে উঠবে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের নানা অধ্যায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে অর্কেস্ট্রা মিউজিকের সাথে গান পরিবেশনা, বঙ্গবন্ধুকে প্রতিকী চিঠি উৎসর্গ, ‘মুজিব শতবর্ষের কার্যক্রম ফিরে দেখা’ শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন ছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বন্ধু রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় থাকছে ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পরিবেশনা। বর্ণিল আতশবাজি ও লেজার শো’র মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে প্রথম দিনের আয়োজনের।
বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বিকাল ০৪:৩০-এ শুরু হয়ে রাত ০৮:০০টায় শেষ হবে। সন্ধ্যা ০৬:০০টা থেকে ০৬:৩০টা পর্যন্ত ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান সকল টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

