জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: হিমেল বাতাস আর টানা বৃষ্টিতে যখন মানুষ ঘরের ভেতর উষ্ণতার খোঁজে থাকে, তখন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২নং বাগবাটি ইউনিয়নের কানগাতি গ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত শতাধিক অসহায় পরিবার শীত ও বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। ভাঙাচোরা ঘর, ফুটো চাল আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তাদের প্রতিটি রাত যেন একেকটি দুঃস্বপ্ন।
প্রায় ১০০টি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র ৬০টি জীর্ণ ঘর। অধিকাংশ ঘরের চাল ভাঙা, দেয়ালে বড় বড় ফাটল। বৃষ্টির সময় ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতর। ভিজে যায় বিছানা, কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রী। শিশুদের কাঁপুনি থামাতে মায়েরা বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রাত পার করেন, আর বৃদ্ধরা ঠান্ডায় কুঁকড়ে পড়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।
এক বৃদ্ধ আশ্রয়বাসী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“এই বয়সে এসে এমন কষ্ট হবে ভাবিনি। রাতে ঘুম আসে না। বৃষ্টি পড়লে পানি মাথার ওপর পড়ে, ঠান্ডায় শরীর জমে যায়।”শীত নামলেই আশ্রয়কেন্দ্রজুড়ে বাড়ে রোগব্যাধি। জ্বর, সর্দি-কাশি আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। কিন্তু গরম কাপড় বা কম্বলের অভাবে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অনেক পরিবার দিনের পর দিন ভেজা বিছানায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রটির কোনো সংস্কার হয়নি। বারবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। ফলে বছরের পর বছর ধরে অসহায় মানুষগুলো অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর দয়া করে দেরি নয়। অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রটির জরুরি সংস্কার, ভাঙা চাল ও দেয়াল মেরামত, পর্যাপ্ত ঘর নির্মাণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এই শীতেই কানগাতি গ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মানবিক বিবেচনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এখনই এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন আশ্রয়বাসীরা—যাতে অন্তত এই শীতে তারা নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই ও উষ্ণতার সামান্য আশ্বাস পেতে পারে।

