মো: সবুজ হোসেন রাজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ি যাওয়ার সড়কের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও বাথান এলাকার পর্যটন ও পরিবেশের সৌন্দর্য বজায় রাখতে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ কামরুজ্জামানএই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ বিলাল হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) ওয়াজিবুর রহমান, ৩নং পোতাজিয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মনিরুল, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ, দুগ্ধ সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, রেশমবাড়ি এখন শুধু একটি চারণভূমি নয়, এটি শাহজাদপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ ও রাস্তার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। তাই আমরা এখানে একটি স্থায়ী সমাধান দিতে কাজ শুরু করেছি। এই ড্রেন নির্মাণ হলে শুধু পরিচ্ছন্নতাই নয়, পর্যটন সুবিধাও আরও উন্নত হবে।
উল্লেখ্য, বর্ষায় প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমিতে পরিণত হয় শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়ার রেশমবাড়ি এলাকা। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
রেশমবাড়িতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ গো-চারণ ভূমি, যার আয়তন প্রায় এক হাজার চারশত একর। এখানকার খামারিরা সারা বছর তাদের গবাদি পশু এই বিশাল চারণভূমিতে লালন-পালন করেন। সারাদিন গরুগুলো সবুজ ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠে, আর রাতে তারা অবস্থান করে স্থানীয় ভাষায় পরিচিত “বাথান”-এ।
এই অঞ্চলের গরুর দুধের মান উৎকৃষ্ট হওয়ায় এর চাহিদা দেশজুড়ে ব্যাপক।
তবে, বর্ষা মৌসুমে বড়াল নদীর পানি উপচে পড়ে গো-চারণ ভূমির বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। আষাঢ়ের শেষ দিকে এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং আশ্বিনের শেষে ধীরে ধীরে আবার জেগে ওঠে। এ সময় খামারিরা তাদের গবাদি পশু বাড়িতেই রাখেন।
বর্ষায় রেশমবাড়ির দিগন্তজোড়া সবুজ চারণ ভূমি ও জলরাশির মায়াবী দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
তবে, পর্যটকদের যাতায়াতকালে গবাদি পশুর বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের অভাবে সড়ক পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছিল। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি পর্যটন অভিজ্ঞতাও বিঘ্নিত হচ্ছিল।
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগে রেশমবাড়ি সড়কে ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হবে, যা রাস্তার পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

