মনোহরদীতে গভীর রাতে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড: সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কাজল মিয়া
মো হিমেল মিয়া মনোহরদী নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদী থানার লেবুতলা ইউনিয়নের ধরাবান্ধা দিঘীরপাড় গ্রামের শান্ত রাত হঠাৎ করেই অগ্নিকাণ্ডের চিৎকারে কেঁপে ওঠে। গত ১১ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়ার বসতঘরের হঠাৎ আগুন দেখা দিলে মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা ধারণা করছেন—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।
ঘরের ভেতরে ছিল পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কাজল মিয়ার পরিচালিত ছোট মুদির দোকানের সমস্ত মালামাল। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি ও বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তার আগেই বসতঘর সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ভেতরের সব মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। কাজল মিয়ার দাবি—এই অগ্নিকাণ্ডে তার আনুমানিক দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
ঘরের ভেতর কোন মানুষ ছিল না। তারা অন্য একটি ঘরে ঘুমিয়ে ছিল।যদি মানুষ থাকতো তাহলে তারা ও প্রাণে মারা যেত।
ভোরের আলো ফুটতেই স্পষ্ট দেখা যায়—আজীবন পরিশ্রম করে গড়া তার ছোট্ট ঘরটিতে শুধু ছাই আর পোড়া কাঠের স্তূপ পড়ে আছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল মিয়া বলেন, “এক রাতেই আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমার দোকানের সব মালামাল, বাচ্চাদের জন্য কেনা জিনিস—কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। আমার স্বপ্ন আর জীবনের সঞ্চয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি এখন একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি।” তার চোখেমুখে তখনো আতঙ্ক আর অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
এলাকাবাসী জানান, কাজল মিয়া একজন সৎ, পরিশ্রমী মানুষ। তার ছোট মুদির দোকানটিই ছিল উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন—এ ঘটনাটি রহস্যজনক এবং কোনো শত্রুতা থেকেই কেউ আগুন লাগাতে পারে। তাই তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কাজল মিয়া। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। কাজল মিয়া আশা করছেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনরায় ঘর নির্মাণে সরকারি সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

