নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর এক মিলনমেলায়, যেখানে ফুটে ওঠে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, আনন্দ ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী জনাব সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব—এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ সজিব মিয়া এবং মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব আমিনুর রহমান সরকার দোলন। তারা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান। তার দক্ষ ও সুনিপুণ ব্যবস্থাপনায় পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে সম্পন্ন হয়।
১৪ এপ্রিল
মঙ্গলবার , মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশীয় গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং লোকজ ঐতিহ্যের নানাবিধ উপস্থাপনা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় র্যালিটি হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন ও প্রাণবন্ত।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু আনন্দেরই উৎস নয়, বরং বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নববর্ষের এই উৎসব সকল ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একত্রিত করে, সৃষ্টি করে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন।
সব মিলিয়ে, মনোহরদীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল আনন্দ, সংস্কৃতি ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি, যা উপস্থিত সবার মনে রেখে গেছে গভীর আনন্দ ও ভালো লাগার স্মৃতি।

