পত্রিকা হকার ও তার ছেলের পাশে দাঁড়ালেন – ডেপুটি স্পীকার
তোবারক হোসেন খোকন,দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:সংবাদ ও সাংবাদিকদের শ্রদ্ধা করে দীর্ঘ ২৬বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করছেন সুজিত সরকার সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরোনোর অবস্থা থাকলেও কারো কাছে হাত পাতেননি তিনি| পত্রিকা বিক্রি করেই ¯^ামী-স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরণ-পোষন করে পাঁচ জনের সংসার চালাতে হয় তাকে|
বড় ছেলে প্রতিবন্ধি, মেঝো ছেলে নীরব সরকার দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী| অভাবের সংসার, টাকার অভাবে এখনো ছেলেকে নতুন বই কিনে দিতে পারেনি সুজিত সরকার| পুরাতন বই এবং ক্লাশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই ধার করে নিয়েই চলে ছেলের পড়াশোনা| এক মেয়ে প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী| টাকার অভাবে মেয়ের স্কুল ড্রেসও বানিয়ে দিতে পারেন না তিনি|
বর্ষার দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজেই গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা বিলিয়ে যায় সুজিত| একটি রেইনকোর্ট কেনার সামর্থ নেই তার| বৃষ্টিতে ভেজার কারনে মাঝে মধ্যে শরীর খারাপ হয়ে যায়| সংসারের কথা ভেবে খারাপ শরীর এবং জং ধরা সাইকেল নিয়েই বেরিয়ে পরেন পত্রিকা বিক্রির কাজে|
সম্প্রতি হকার সুজিত কে নিয়ে ৭১ টেলিভিশনে একটি সংবাদ প্রকাশ করে| ওই সংবাদ দেখে পত্রিকা হকার সুজিত ও তার ছেলের খোজ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোনা- ১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল| তিনি ছেলের নতুন বই কেনা সহ একবছরে পড়াশোনার খরচ, একটি নতুন সাইকেল এবং সুজিতের সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্রদান করেন তিনি| শনিবার (০২ মে) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে সাংবাদিকদের উপস্থিতে এ সকল উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়|
এ সময় দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাবেক সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল তালুকদার, ৭১ টেলিভেশনের প্রতিনিধি রাজেশ গৌড়, সাংবাদিক দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, আল নোমান শান্ত, আবিদ হাসান বাপ্পি, শাহীন মিয়া সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন|
পত্রিকা হকার সুজিত সরকার বলেন, দীর্ঘ ২৬বছর ধরে একটি পুরাতন সাইকেল দিয়ে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি| নিম্নআয়ের মাধ্যমে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি| টাকার অভাবে ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছিনা| পুরাতন বই এবং বন্ধুদের কাছ থেকে বই ধার করে পড়াশোন করছে আমার ছেলে নীরব| আমার এই ˆদন্যতার কথা শুনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মাননীয় ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার| আমি উনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ আমাকে এই সহায়তা করার জন্য| ভগবানের কাছে উনার জন্য প্রার্থনা করি, উনি যেনো এভাবেই আমাদের মতো মানুষের ছায়া হয়ে বেঁচে থাকেন
সুজিত সরকারের ছেলে নীরব সরকার বলেন, আমার একসেট নতুন বই হবে এটা ভাবতেও অবাগ লাগছে| সময় মতো বই খাতা, কলম, পেন্সিল সহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ কিনে দেয়ার সামর্থ আমার পরিবারের নাই| অন্যের বই ধার নিয়ে পড়াশোনা করতে হতো| দারিদ্রতাই যেনো আমার নিত্য দিনের সাথী| আমাদের এমন খবর পেয়ে মাননীয় ডেপুটি স্পীকার স্যার যে সহায়তা করলেন আমরা উনার প্রতি কৃতজ্ঞ| আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেনো এই দিনকে ¯^রণে রেখে ভালো রিজাল্ট করতে পারি|

