আবুল হাশেম,ধোবাউড়া(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার,১নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের,সানখলা গ্রামের কৃতি সন্তান-মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল-ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।কমিটি প্রকাশ হলে তার নিজ উপজেলা ধোবাউড়া ও নিজ গ্রামের মানুষের মাঝে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন,এটি আমার জীবনের এক গৌরবময় ও আবেগঘন মুহূর্ত। আমি ১নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের সানখলা গ্রামের এক অজপাড়াগাঁয়ের সন্তান। শৈশব থেকেই একটি আদর্শিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার প্রাণের সংগঠনে পরিণত হয়।তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক পথচলায় বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আমাকে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।হত্যার হুমকি, মামলার হুমকি এবং হামলার শিকার হয়েছি।রাজপথের সময়গুলো এমন গেছে যে যেকোনো সময় আওয়ামীলীগ,আওয়ামী পুলিশলীগের হাতে আহত-নিহত হয়ে যেতে পারি জেনেও দমে যাইনি।আন্দোলন সংগ্রামের বলার মতো অনেক ঘটনাই আছে,তার মাঝে একটি হলো,২৮ অক্টোবর,বেলা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় রাজধানীর পল্টন টাওয়ার মোড়ে বন্দি ছিলাম,দিন থেকে রাত পর্যন্ত আওয়ামী ও আওয়ামী পুলিশ লীগের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে এবং তাদের ছোড়া একটি বুলেট কানের পাশ দিয়ে চলে যায়,আল্লাহর অশেষ রহমতে বেচে যাই।আরেকটি ঘটনা হল ১০ ডিসেম্বর গোলাপবাগের বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়েছিলাম, দীর্ঘ সময় আমার আমার ফোন চেক করে,জিজ্ঞাসাবাদ করে অবশেষে কোনো তথ্য প্রমান না পেয়ে ছেড়ে দেয়,সব তথ্যই লোকানো ছিলো।এমন করে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসনে রাজপথে থেকে প্রতিবাদ করেছি,জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ছিলাম,প্রতিবাদ করেছি যোদ্ধ করেছি।এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও কখনো রাজপথ ছাড়িনি। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে সবসময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছি এবং জুলাইয়ের আন্দোলনেও সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছি।”আরো জানান,রাজনৈতিক সংগ্রামের কারণে সময় মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি,আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা ও আদর্শের প্রশ্নে কখনো পিছপা হয়নি।দীর্ঘদিনের ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দল তাঁকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল-এর সহ-সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে বলে তিনি জানান। এ জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন তিনি।সবশেষে তিনি বলেন, “আমি যেন দল প্রদত্ত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে পারি এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারি—সেজন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

