ডুমুরিয়ায় অতি বর্ষণে কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা বিপাকে কৃষক ও মৎস্য চাষী

Share the post

জাহাঙ্গীর আলম (মুকুল),স্টাফ রিপোটার খুলনা: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টিপাতে চুকনগর কাঁঠালতলা এলকার কয়েকটি বিলে তৈরি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সেই সাথে তলিয়েছে মৎস্য ঘের সহ নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত বাড়িঘর।একদিকে যেমন চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষ করা নিয়ে শংকায় রয়েছে কৃষকরা।অন্যদিকে মৎস্য ঘের মালিকদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার।সরেজমিনে চুকনগর খুলনা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে মহিষ কুড়া,পাতাখোলা,পাঠন পাড়া, ভায়নার বিলে গেলে দেখা যায় জলাবদ্ধতা।এই সকল বিলের পানি নিষ্কাশন হয়ে যায় ভদ্র নদীতে। সেই পানি অপসারনের এক মাত্র পথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাঁধ।
এছাড়াও ভদ্রা নদী পুনঃ খননে খর্ণিয়া থেকে ভদ্রা নদি বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বাঁধটি।এলাকার অধিকাংশ কৃষকের দাবি অতিশিগ্রই ভদ্রা নদির বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করা।দ্রুত এ কাজটি না করলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমন ধানের উৎপাদন অনেকাংশে লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন স্হানিয় কৃষকরা।
এছাড়াও চুকনগর যশোর রোডের পাশে রয়েছে শোলাকুড়,হাতিপোতা ডাঙ্গি বিল এই বিলের সব পানি নিষ্কাশন হয় বুড়ি ভদ্রা নদীতে।সেই পানি নিষ্কাশনের জায়গাগুলো এখন দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। পানি নিষ্কাশনের জায়গাগুলো দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন সহ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ।

যে কারনে এই বিলে আমন ধান চাষ করা নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। জমির মালিকদের সাথে কথা বললে প্রায় সকলেই এই বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করার জন্য দাবি জানান।সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে জানাযায় চলতি মৌসুমে এসমস্ত বিলে আমন ধান,মৎস চাষ হয় পানি নিষ্কাশন না হলে ধান ও মাছ উৎপাদন কম হবে বলে জানাযায়।অফিস সূত্রে জানাযায়,ভারী বৃষ্টির কারনে চুকনগর কাঁঠালতলা এলাকার কয়েকশ মৎস ঘের ও পুকুর থেকে সাদা সোনা খ্যত চিংড়ি সহ অনান্য প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে এবং কয়েকটি কাঁকড়া খামার এই জলাবদ্দতার কারনে তলিয়ে গেছে।
কারণ হিসাবে সকল চাষী সহ স্থানীয়রা সকলেই বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাবস্থা না করাকেই দায়ী করছেন।খোঁজ নিলে আরো জানাযায়,দেশের গলদা উৎপাদনের ১৯ ভাগ এই উপজেলাতেই হয়। আর জেলার উৎপাদনের মধ্যে ৬০ ভাগ হয় অত্র উপজেলাতে ।গত অর্থ বছরে ৬৬৯৫ মে.টন মাছের চাহিদা ছিল তার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১০৩৫০ মে.টন।
কিন্তু এবছর একনাগাড়ে কয়েকদিন বৃষ্টির কারনে বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতার কারনে ঘের তলিয়ে যাওয়া, আমন ধান চাষ করা নিয়ে শংকায় থাকলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেনি কতৃপক্ষ। যেটাকে কৃষক মৎস্যচাষী এমনকি স্থানীয়রা ভালোভাবে দেখছেননা বিষয়টাকে। এবিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন আমি সরেজমিনে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ঘুরে যেখানে যেখানে জলাবদ্ধতা আছে অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা গ্রহন করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে বসতঘরে আগুন, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

Share the post

Share the postমো: রিপন হোসেন,ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা […]

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]