চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে উঁচু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সবুজ দুই পাহাড়ের মাঝে দাড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধু। দুপুরের সূর্যের আলো আরো দেদীপ্যমান করে তুলেছে যেন ইতিহাসের সেই মহানায়ককে। চোখে সেই কালো ফ্রেমের চশমা। ডানহাতের সেই তর্জনী আংগুলটি বাঙ্গালীকে যেন দেখাচ্ছে সংগ্রাম আর মুক্তির নতুন গতিপথ। বজ্র কন্ঠে যেন শেকল ভাংগার সেই গগনবিদারী ডাক ” এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম “। প্রায় ২৬ ফুট উঁচু বঙ্গবন্ধুর সুবিশাল ভাস্কর্যটির মাঝেই যেন ফিরে এল স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
নগরীর টাইগারপাসে (চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন) চসিকের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে আজ সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের মাটির অনুকৃতি উন্মোচন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
আজ ম টাইগারপাস চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রধান কার্যালয়ের পাহাড়ী উপত্যকার উন্মুক্ত প্রাংগনে ভাস্কর্যটির অনুকৃতি উন্মোচন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, চারুকলা শিক্ষক শায়লা শারমিন, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, ভাস্কর্য শিল্পী আতিকুল ইসলাম।
মেয়র বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমার মেয়াদকালে ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষের এই শুভলগ্নে জাতির পিতার এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করতে পেরেছি। আগামী ১০ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ভাস্কর্যটি নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সংযোগস্থল হালিশহরের বড়পুল মোড়ে প্রতিস্থাপন করা হবে। এটির নির্মান ব্যয় হবে চল্লিশ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, পোর্ট কানেকটিং রোডে স্থাপনের জন্য বেইজসহ সাড়ে ২৭ ফুট উঁচু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি তৈরি করছে চসিক। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফেস বাই ফেস এটি ডেভলপ হবে। এক মাস সময় লাগবে। বিউটিফিকেশনসহ মোট ব্যয় হবে ৮৮ লাখ টাকা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য। ডায়েস তৈরি করে সাদা সিমেন্টে ঢালাই হবে।

ভাস্কর্যটির ডিজাইন কনসালট্যান্ট বিশিষ্ট চারুকলা শিল্পী ও শিক্ষাবিদ শায়লা শারমিন বলেন, অত্যন্ত নান্দনিক ও শৈল্পিক উপস্থাপনা আছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটির পুরো অবয়ব জুড়ে। যেন সেই জীবন্ত কিংবদন্তি। শিল্পীর চোখে আমি বলতে পারি শিল্প কর্মটি একেবারে অথেনটিক।
দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বোচ্চ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দাবী করে এটির নির্মাতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার সহকারী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, এটির নির্মাণ আমার একার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনি। আমার সাথে আছে এ প্রজন্মের নবীন কিছু চারুকলা শিল্পী। তাদের পুরো টিমটিই মূলত কাজটা করেছে। এটির নির্মাণ কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্লেপ বা বিশেষ মাটির মিশ্রনে সিমেন্ট, কংক্রিট, পাথর ও লোহার উপাদান থাকায় ভাস্কর্যটি মজবুত গাঁথুনিতেও অনন্য সাধারণ হয়ে উঠবে ও দীর্ঘমেয়াদী হবে।
সর্বশেষে হোয়াইট সিমেন্টের প্রলেপ থাকায় দিনের আলো আর রাতের চাঁদনী আলোতেও বিমূর্ত হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর শ্বেত শুভ্র অবয়বটি। দিন আর রাতের পালাবদলে সাধারণ মানুষ শত ব্যস্থতার মাঝেও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি দেখে হয়ে উঠবে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় আবেগ আপ্লুত।
এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, ভাস্কর্য শিল্পী চবি চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, শায়লা শারমিন, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

