গাইবান্ধায় ব্যবসায়ী হত্যা: পুলিশসহ ৩ জনের নামে মামলা
অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ আবার অপহরণকারীর হাতে তুলে দেয়ার পর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের গাফলতির অভিযোগ এনে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানাকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি করেছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে, বাবা হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে রোববার শহরের ডিবি রোডে মানববন্ধনে দাঁড়ায় নিহত হাসান আলীর সাত বছরের সন্তান, স্বজন ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে হাসান আলী হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।
গত ৫ মার্চ জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলীকে অপহরণ করে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা। হাসানের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করলে মাসুদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর অপহৃত ব্যবসায়ীকে আবারো অপহরণকারী মাসুদের জিম্মায় দেয় পুলিশ। টানা একমাস মাসুদের বাড়িতে আটক অবস্থায় থাকার পর মারা যান ব্যবসায়ী হাসান আলী। এ ঘটনায় দলীয় পদ থেকে রোববার মাসুদকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরহাদ আব্দুল্লাহ হারুন বাবলু অব্যহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাসুদ রানা যা করেছেন তা অন্যায়। আওয়ামী লীগ কখনো অন্যায়কারীর সাথে আপস করে না। তাই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গাফিলতি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
শনিবার সকালে সদরের নারায়নপুরে মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানের মরদেহ উদ্ধারের পর আটক করা হয় মাসুদ রানাকে। রাতে মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মজিবর রহমান ও এসআই মোশাররফের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দাখিল করেন নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম।

