কর্ণফুলীর আগুনে নিভে গেল সন্দ্বীপের তরুণ প্রকৌশলী তামিমের জীবন
শাহাদাত হোসেন,সন্দ্বীপ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরার নৌযান (ফিশিং ভেসেল) ‘এফভি দেশ’-এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সন্দ্বীপের মেধাবী তরুণ প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম।
টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং পুরো সন্দ্বীপে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তামিমের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে। রোববার বাদ আসর নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। একজন সম্ভাবনাময় তরুণ প্রকৌশলীর অকাল মৃত্যুতে উপস্থিত সবার মাঝে ছিল গভীর শোক ও বেদনার আবহ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে রাখা মাছ ধরার নৌযান ‘এফভি দেশ’-এ হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো নৌযানে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ‘এফভি দেশ’-এর ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, নাবিক মো. রুবেল ও শাহ আলম গুরুতর দগ্ধ হন। একই সঙ্গে পাশেই নোঙর করা ‘এফভি ডিজনি’ নৌযানের নাবিক নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদও অগ্নিদগ্ধ হন।
দগ্ধ ছয়জনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তামিম, রুবেল ও শাহ আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রুবেল ও শাহ আলমের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আশিকুজ্জামান তামিম কয়েকদিন ধরে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শনিবার দিবাগত রাতে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কর্ণফুলীর এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
তামিমের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও স্বপ্নবাজ একজন তরুণ। প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, পুরো সন্দ্বীপবাসীর জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

