ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post
শাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো।
উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির পর ভাঙন নতুন রূপ নিয়েছে। নদীর তীর ধসে পানি এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া নদীতীরবর্তী বহু স্থানীয় বাসিন্দার বসতভিটা ও আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী গিলে খাচ্ছে মানুষের শেষ সম্বল, বসতভিটা ও ফসলি জমি। সন্ধ্যা নামলেই বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা কাজ করে—এই বুঝি ঘরসহ নদীতে তলিয়ে যেতে হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপি বেগম বলেন, “অনেক কষ্টের পর সরকার আমাদের থাকার জন্য এই ঘর দিয়েছে। এখন এই ঘর হারানোর ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, “শুধু আশ্রয়ণের ঘর নয়, আমাদের বসতবাড়ি আর আবাদি জমিও নদী গিলে খাচ্ছে। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচবো—সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।”
সুরাইয়া বেগম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই তাদের বুক ধড়ফড় করে। নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, কখন যে ঘর নদীতে চলে যায় সেই আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
কুলানন্দপুর গ্রামের শহিদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সভাপতি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, “করতোয়ার অব্যাহত ভাঙন এখন শুধু মাটি নয়, কেড়ে নিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বর্ষায় নদীর আগ্রাসনে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ছাড়াও আশপাশের শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর সংরক্ষণ, টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারসহ নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানান, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

ফরিদপুরে বিএসটিআইর মোবাইল কোর্ট: ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

Share the post

Share the postমো: মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় মোট তিনটি মামলায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অননুমোদিত খাদ্য রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ফরিদপুর […]

করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ স্লোগানে মনোহরদীতে ফল মেলা অনুষ্ঠিত

Share the post

Share the postমো হিমেল মিয়া,মনোহরদী ,নরসিংদী :নরসিংদীর মনোহরদীতে ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফল মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ ফল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান। বিশেষ […]