আকিব হাসান,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন ক্লাসের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় দীর্ঘদিন পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পদ্ধতির আওতায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (ইঞ্জিনিয়ারিং/সম্মান), বিবিএ ও বিএসএস প্রোগ্রামে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ থেকে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ নিজস্ব আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেয়। বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত থেকে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে হবে।
এবার ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম ব্যাচ। নতুন মুখের আগমনে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বন্ধু, নতুন বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস ও স্বপ্নের ঝলক।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী অনন্যা খাতুন বলেন, অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রমের পর আজ পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের অবদানে আমরা এই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। মেধা ও শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ ব্যবহারে ক্যাম্পাসের গৌরব অক্ষুণ্ন রাখা এবং সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বলেন , “আজ আমাদের পরিশ্রম সার্থক।
মেডিকেলে না হওয়ার সাময়িক হতাশা ও ডিপ্রেশন কাটিয়ে আজ আমরা এক নতুন জীবনের সূচনা করছি। আজ মনে হচ্ছে, ভাগ্যক্রমেই আমরা এই চমৎকার পরিবারে যুক্ত হতে পেরেছি।
নবীন শিক্ষার্থীদের দিক নির্দেশনা অভিনন্দন জানিয়ে ফিন্যান্স অ্যন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি ড. সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, “ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে আপনাদের অভিনন্দন। আপনারা নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও সুন্দর পরিবেশ পাবেন।দায়িত্ব হিসেবে আপনাদের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এবং শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। আমাদের ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে, কোনো সমস্যা হলে দ্বিধাহীনভাবে আমাদের জানান। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলুন। নতুন পরিবেশের যেকোনো প্রয়োজনে বিভাগের বড় ভাই-বোনদের সাহায্য নিন”।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. রাশিদুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সালে এক দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে এসে তোমাদের মতই এই প্রাঙ্গণে পা রেখেছিলাম।তোমরা যে বিভাগে সুযোগ পেয়েছ, সেটিকে মেনে নিয়ে নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা চালিয়ে যাও; দেখবে সবচেয়ে ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে। জীবনে সফল হতে হলে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় মনে রাখবে। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যের পক্ষে লড়ার আগে নিজের ভেতরের নেতিবাচকতা ও অহংকারকে জয় করো।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ড. ফারুজ্জামান বলেন,”এই কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ মাত্র ২৫ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে। যার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে অত্যন্ত সফল অবস্থানে রয়েছে। এখান থেকে অর্জিত ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজির জ্ঞান তাদের ব্যাংকিং ও কর্পোরেটসহ যেকোনো পেশায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। এআই ও অটোনোমাস সিস্টেমের প্রভাবে দাপ্তরিক কাজ হারিয়ে গেলেও, খাদ্য উৎপাদন বা কৃষির মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তনের যুগে সফল হতে হলে প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও ক্রমাগত শেখার মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি।

