জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে। নাড়ির টানে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেলেও এবার স্বস্তির খবর—কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ থাকলেও চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের অবিরাম চলাচল সত্ত্বেও কোথাও স্থবিরতা তৈরি হয়নি। ফলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। এর মধ্যে পূর্ব প্রান্ত থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং পশ্চিম প্রান্ত থেকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।
যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, টহল জোরদার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট টিমকে।
ঢাকার গাজীপুর থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী রুবেল বলেন, “প্রতিবার ঈদের সময় এই রাস্তায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু এবার কোনো যানজট নেই, খুব স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছি।”
ঢাকা থেকে বগুড়াগামী জব্বার জানান, “দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর পরিবারের কাছে ফিরতে পারার আনন্দই আলাদা। কিছুটা ভিড় থাকলেও যাত্রা ভালোই চলছে, কোনো বড় সমস্যায় পড়তে হয়নি।”
পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রংপুরগামী বাসচালক সাগর শেখ বলেন, “গাড়ির চাপ অনেক, তবে কোথাও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। পুলিশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।”
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। বিকল্প সড়কপথ না থাকায় প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে এবার যাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছে অনেকটাই স্বস্তির।

