জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২নং বাগবাটি ইউনিয়নের হরিনামগোপাল এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবাগত রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে অফিসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অফিসের ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিল, ব্যানার, পোস্টার, প্রচারপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাগজপত্র পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় অফিসের একটি অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সময় আশপাশে লোকজন না থাকায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরে ভোরের দিকে স্থানীয়রা আগুনে পোড় অফিসটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত নাশকতার অংশ হতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদর আংশিক) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্মা ওলানা শাহিনুর আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,“নির্বাচনের সময় এ ধরনের সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। একটি দলের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা মানে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা। আমরা এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
এদিকে ২নং বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মোঃ সানোয়ার হোসেন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,“শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার পর নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশপাশের দোকান ও বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
হরিনামগোপাল এলাকার সাধারণ মানুষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের সময় এমন ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হোক।”আরেকজন জানান, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, যা দুঃখজনক।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এ ধরনের সহিংস ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

