আশিকুর রহমান, নরসিংদী : নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে একই পরিবারের দুইজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক হয়েছেনএরা দুইজনই মাধবদী পৌরসভার টাটাপাড়া মহল্লার ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাড়ির সন্তান।চাচা ড. রফিকুল ইসলাম খান এবং ভাতিজি ড. সানজিদা খান। যথাক্রমে এরা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বাইওমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।ড. রফিকুল ইসলাম খান কমনওয়েলথ থেকে বৃত্তি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন থেকে ১৯৮৯ সালে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক্স বিষয়ে ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। কর্মজীবনে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও বৈজ্ঞানিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন, অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান CSIRO, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোভার্টিস/সিনজেন্টা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষক হিসেবে ২৫ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেন।
অপরদিকে ভাতিজি ড. সানজিদা খান ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Oregon Health and Science University থেকে মেধাভিত্তিক পূর্ণ বৃত্তিতে বাইওমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার মাধ্যমে মানবচক্ষুর কর্নিয়ার চিকিৎসা সুবিধা উন্নয়নে আলোকরশ্মিভিত্তিক একটি নতুন ইমেজিং পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে, যার ফলাফল শিগগিরই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হবে। তিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের Drew University থেকে ২০১৯ সালে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকার গ্রিন হেরাল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেল কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন এবং পরে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পিতা মুজিবুর রহমান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফলকে আরও সমৃদ্ধ করতে Oregon Health and Science University-তে বৈজ্ঞানিক হিসেবে অতিরিক্ত গবেষণার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

