মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল,কালিয়াকৈর, গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সোমবার দুপুরে ঘটে গেলো এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। জীবনের ব্যস্ত পথ চলা থেমে গেলো অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (৪০) জন্য—যার কোনো নাম জানা গেল না, পরিচয় জানা গেল না… শুধু রক্তমাখা দেহটুকুই বলে গেল, তিনি এই সমাজেরই একজন মানুষ ছিলেন।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের জোড়াপাম্প এলাকার সান চেরী গার্মেন্টস ও মদিনা গার্মেন্টস সংলগ্ন জায়গায় কাটা ডিভাইডার পেরোতে গিয়েছিলেন ওই নারী। হয়তো কাজে যাচ্ছিলেন, হয়তো ফিরছিলেন কোথাও… কে জানে! কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি কংক্রিট মিক্সার গাড়ির চাকা তাকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়।
ঘটনার শব্দে ছুটে আসে লোকজন। কেউ চিৎকার করেন, কেউ দৌড়ে যান তাকে তুলতে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ডাক্তাররা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি—**মৃত ঘোষণা করা হয় তাকে**।
মুহূর্তেই মহাসড়ক ও আশপাশে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। মানুষজন শুধু বলছিল—“নারীটির পরিচয়টাই যদি জানা যেত! তার পরিবার কোথায়? কে তার অপেক্ষায় আছে?”
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা গাড়ির চালক মনোয়ার হোসেন (৪২) এবং হেলপার নাওন ইসলাম (২৩)-কে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ দ্রুত গাড়িটিও জব্দ করে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার সদস্যরা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে **শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই নারীর কোনো পরিচয় মেলেনি।
স্থানীয়রা কষ্টভরা কণ্ঠে বলছিল—“মহাসড়কে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। আজ হয়তো আমরা তাকে চিনতাম না, কিন্তু তার মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে।”হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে থাকা সেই অচেনা নারীর নিথর দেহ যেন নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ছিল—“আমার বাড়ি কোথায়? আমার সন্তান কি আমার অপেক্ষায় আছে?”

