কবির হোসেন রাকিব ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আবারো এক ঝড়ো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আলেকজান্ডার বাজারের ১৫টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর চারটায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এক গভীর ধাক্কা হিসেবে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে নগদ অর্থ, মালামাল ও দোকানঘর মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
আগুনের সূত্রপাত ও দ্রুত বিস্তার স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিদ্যুৎ শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে লেপ তোশকের দোকানে আগুন লাগে, দ্রুত তা চারপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। রামগতি ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিমের তৎপরতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও তখন পর্যন্ত বাজারের অর্ধেকের বেশি দোকান পুড়ে গেছে।
আগের অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই অগ্নিকাণ্ডের আগে গত অক্টোবর মাসে রামগতির তিনটি বাজারে সাপ্তাহিক ব্যবধানে ৩০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে জমিদারহাট, চরআলগী ও আলেকজান্ডার বাজারে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত কয়েক মাসে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রামগতির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।
ব্যবসায়ীদের হতাশা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাত দশটার পর তারা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন; হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখতে পান সম্পূর্ণ দোকানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা গভীর হতাশায় রয়েছেন। অনেকেই এখন ভবিষ্যতে কীভাবে তাদের ব্যবসা পুনরায় শুরু করবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও আগাম প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা রামগতি ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত অফিসার মোঃ খোকন মজুমদার জানান, বিদ্যুৎ শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। রামগতি থানার ওসি মো. কবির হোসেনও জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে, তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
রামগতি উপজেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র আলেকজান্ডার বাজারে এই ধরনের নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড ব্যবসায়ীদের আস্থা কমাচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের দুর্ভাগ্য এড়ানো যায়

