জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ—এক সময় জেলার সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গৌরবময় অবস্থান ধরে রেখেছিল এই প্রতিষ্ঠান। হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার আশ্রয়স্থল এই কলেজ সম্প্রতি নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিবহন খাতে দুর্নীতি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে দৃশ্যমান করেছে। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে বাড়তি কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনা থেকে আসা প্রতিনিধি দল কলেজে প্রবেশ করে সরাসরি অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আমিনুল ইসলামের দপ্তরে যায়। এরপর তারা পর্যায়ক্রমে কলেজের বিভিন্ন শাখার নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। বিশেষ করে পরিবহন খাতের হিসাব, ফি আদায়ের রেকর্ড এবং প্রশাসনিক নথি খুঁটিয়ে দেখা হয়।
অভিযানের সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অভিযোগ নেওয়া হয়। এক শিক্ষার্থী জানান, “আমাদের কাছ থেকে নিয়মিত অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়, অথচ এর বিনিময়ে যথাযথ সেবা মেলে না।” আরেকজন বলেন, “পরিবহন খাতে দুর্নীতি এতটাই প্রকট যে অনেক সময় নিয়ম মেনেও সুবিধা পাওয়া যায় না।”
কিছু শিক্ষক আবার দাবি করেন, বিষয়গুলো বহুদিন ধরেই গোপনে চলছিল। তবে দুদকের অভিযানে এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, এই তদন্তই হতে পারে কলেজ প্রশাসনের অনিয়ম বন্ধের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ধরে জটিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আশা করছেন, দুদকের কার্যক্রম শেষে কলেজ আবারও তার সুনাম ফিরিয়ে পাবে।

