হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম, মরিয়মের পাশে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : জন্মের পর থেকেই অসহ্য বুকের ব্যাথা নিয়ে জন্মানো এক শিশুর নাম মরিয়ম। মাত্র ১৭ মাস বয়সেই হার্টে ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে, গুনছে মৃত্যুর প্রহর। স্থানীয় বিএনপি‘র নেতাকর্মীদের মুখে এমন খবর শুনে শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ওনার আর্থিক সহায়তায় ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পাবে শিশু মরিয়ম, এমনটাই আশা করছেন মরিয়মের পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের গুজিরকোনা গ্রামের অটোচালক আল আমিনের মেয়ে মরিয়ম। অভাবের তারনায় বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী-স্ত্রী মিলে ঢাকার গাজীপুর এলাকায় কাজ করতে চলে যান। মরিয়মের মা হেনা আক্তার অন্যের বাড়িতে কাজ করতো আর আল-আমিন ওই এলাকায় ছোট খাটো কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতো। পরবর্তি তাদেঁর সংসারে জন্ম নেয় মরিয়ম। তার বয়স যখন ৭মাস তখন থেকেই প্রায়ই অসহ্য কান্না শুরু করে। পরবর্তিতে ডাক্তারের কাছে গেলে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানতে পাড়ে তার হৃদপিন্ডে রয়েছে ছিদ্র, এটি জন্মগত ত্রæটি।চিকিৎসকগণ জানান, শিশুকে বাঁচাতে হলে দেরি না করে দ্রæত অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে লাখ লাখ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব ছিল। বহু চেষ্টা করেও কারো সহানুভূতি জোটেনি। এভাবেই কেটে যায় অনেক দিন। অবশেষে আল-আমিনের বুকচাঁপা কান্নায় এগিয়ে আসেন ইউনিয়ন বিএনপি‘র নেতাকর্মীগণ। পরবর্তিতে সহায়তা চাইতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দ্বারস্থ হন তারা। শিশুটির কথা শুনে আর দেরি করেননি তিনি। চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।মরিয়মের বাবা আল-আমিন বৃহস্পতিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যুগান্তর কে জানান, আমার মেয়েকে নিয়ে আমি মৃত্যুর প্রহর গুনতেছিলাম। এমন সময় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাহেব আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য যে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন, আমি তার প্রতি চীর কৃতজ্ঞ। আমি উনার জন্য জন্য দোয়া করি, মহান আল্লাহ্ যেনো উনাকে নেক হায়াত দান করেন। আমার মেয়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।স্থানীয় বিএনপি‘র নেতাকর্মীরা বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকার মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার সাহেব। আশা করছি সফল অস্ত্রোপচার হবে। এরআগে একই ধরনের জটিলতা নিয়ে জন্মানো শিশু তাইবা, শিশু আব্দুল্লাহ্ সহ আরো বেশকয়েকজনকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। আল্লাহ্ চাহেন তো মরিময়ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবে। উনার এই মানবিক কাজ গুলো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে শিখিয়ে দিচ্ছে, নেতৃত্ব কাকে বলে।ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার অসহায় মানুষের জন্য হেল্থ ও চক্ষু ক্যাম্প করছি। সেখানে আসা শিশুরা যখন এই ধরনের জটিল রোগে ভোগে, তখন তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে পারি না। এছাড়াও এলাকার দরিদ্র শ্রেনীর মানুষদের জন্য চিকিৎসা চলমান রয়েছে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই কাজ গুলো করছি। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও থাকবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।মানবিক এই উদ্যোগ দুর্গাপুর-কলমাকান্দা উপজেলার জনসাধারণের মধ্যে যেমন স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। তেমনি ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি এমন মানবিক কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও মরিয়মের পরিবার।

