সিরাজগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামিরা অধরা, পুলিশের অভিযান অব্যাহত

Share the post
জলিলুর রহমান জনি,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে গৃহবধূ রিনা খাতুনের হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ স্বজনেরা। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম মহেশপুর গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ রিনা খাতুন (৪০) হত্যার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমন অবস্থায় নিহতের পরিবার হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রধান আসামিসহ সকলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই, যখন মহেশপুর গ্রামের আসাদুল মন্ডলের স্ত্রী রিনা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। রিনার বড় ভাই আছাদুল আকন্দ এ ঘটনায় আসাদুল মন্ডলসহ মোট ৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মো. গোলবার মন্ডলের ছেলে আছাদুল মন্ডল (৪৮), শহিদুল মন্ডল (৫৫), জলিল মন্ডল (৫৮), শহিদুলের স্ত্রী জিহানুর বেগম (৫০), ছেলে জেলহক (৩২), রাকিব (২০) এবং জলিলের স্ত্রী মেরজাহান (৫৫)।
আছাদুল আকন্দ অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে আসাদুল মন্ডলের সাথে রিনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
 প্রথমদিকে সংসার ভালোই চলছিল, তবে দশ বছর পর থেকে আসাদুল কর্মে বিমুখ হয়ে খারাপ লোকদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে। রিনার পরিবার তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
২৩ জুলাই, রিনা তার স্বামী আসাদুলের বসতবাড়ির ৪ শতাংশ জমি ভাইদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে আসাদুল ক্ষিপ্ত হয়ে রিনাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে রিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তার ছেলের ঘরের দরজার ধর্নার সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।
পরদিন ২৪ জুলাই, আছাদুল আকন্দ থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মো. নিয়ামুল হক জানান, “নিহতের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনও পাইনি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।”
উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, “মামলাটি হত্যা না আত্মহত্যা, সে বিষয়ে পুলিশ অধিকতর তদন্ত করছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা করছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। নিহতের স্বজনেরা দ্রুত বিচার দাবি করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে, তারা আশা করছে দ্রুতই আসামিরা আইনের আওতায় আসবে। এই ঘটনাটি সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

পাবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, গুরুতর অবস্থায় শিক্ষার্থী মেডিকেলে প্রেরণ

Share the post

Share the postপাবিপ্রবি প্রতিনিধি:পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন। অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শতাধিক বসতবাড়ি, আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

Share the post

Share the postশাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ শতাধিক বসতবাড়ি। নদীর তীব্র ভাঙনে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষের। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অসহায় পরিবারগুলো। উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা […]