পরিক্ষায় নকল ছাত্রদল নেতার , অভিযোগ অস্বীকার বিভাগীয় প্রধানের
মোঃ মোমিন ইসলাম,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: সেমিস্টার পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আকমল হোসাইন শাকির (ছাত্রলীগ কর্মী) নামক এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগকৃত ঐ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ সোমবার ক্লাসিক্যাল মডেল থিউরি (কোড- ২২৩) কোর্সের ৪র্থ সেমিস্টারের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাকির নকলরত অবস্থায় আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক্সটারনাল পরিক্ষক জনাব ফিরোজ আহমেদ।
এ নিয়ে নকলকারী ঐ শিক্ষার্থীর বিষয়ে জনাব ফিরোজ আহমেদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে একটি ইনসাইডেন্স ঘটেছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের উপর নির্ভর করছে।
নকল করার বিষয়ে আকমল হোসাইন শাকির এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নকলের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি ৩ নং প্রশ্নটা লিখার পর ৪নং প্রশ্ন লিখার সময় পিছনের ১জনের কাছে শুনে ১ টি মাত্র শব্দ প্রশ্নপত্রের এক কোনায় লিখেছি। এসময় ফিরোজ স্যার দেখে ফেলেন এবং আমাকে বলেন যে আমি আর পরিক্ষা দিতে পারবোনা। এসময় আশেপাশের কেউ হয়তো শুনে আমার নামে ফেইক আইডি দিয়ে নকলের অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে নকল করার বিষয়টি অস্বীকার করে দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তারিফুল ইসলাম সহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা। এসময় নকল করার বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান তারিফুল ইসলাম বলেন, ” এরকমের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমরা যেটি জানতে পেরেছি ঐ শিক্ষার্থী পরিক্ষার প্রশ্নপত্রে কিছু লেখালেখি করা এবং এদিক সেদিক তাকানোর ঘটনা ঘটেছে। আমরা তাৎক্ষণিক তার খাতা জমা নিয়ে তাকে পরিক্ষার রুম থেকে বের করে দিয়েছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যদি কোন শিক্ষার্থী নকলরত অবস্থায় ধরা পড়েন তাহলে তার সংশ্লীষ্ঠ পরিক্ষা বাতিল সহ ১ বছরের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশনা থাকলেও এর কোনটিই করা হয়নি ঐ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
নকলরত অবস্থায় একজন পরিক্ষার্থীকে আটক করা সত্যেও কেন তার বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ বিষয়ে পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ এবিষয়ে আমার কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে যদি কোন অভিযোগ করে তাহলে আমরা তদন্ত করে যদি নকলের বিষয়টি প্রমাণীত হয় তাহলে প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
এর আগে একই বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের ২০১৯-২০ বিভাগের শিক্ষাথী রুতবাতা বিনতে রহিম নকলসহ ধরা পড়লে তার পরীক্ষা বাতিল করা হলেও আকমল হোসাইন শাকিরকে বহিষ্কার না করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

