ভেজাল ও নিম্নমানের ভোগ্যপণ্য ঠেকাতে নমুনা তুলবে বিএসটিআই

Share the post
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

চট্টগ্রাম: রমজানের বাকি আর মাত্র ২ মাস ১ সপ্তাহ। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের, নকল, ভেজাল ভোগ্যপণ্য বাজারজাত করার কাজটি শুরু করেছে আরও আগেই। রমজানের সেহেরি, ইফতারে অত্যাবশ্যক এমন ভোগ্যপণ্য ও উপকরণে ভেজাল ঠেকাতে খোলাবাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে মাঠে নামছে বিএসটিআই টিম।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাজার থেকে তোলা হবে ঘি, ময়দা, আটা, সুজি, সরিষার তেল, ফর্টিফাইড সয়াবিন, পাম অয়েল, পাম অলিন, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, লাচ্ছা সেমাই, বাংলা সেমাই, দই, নুডলস, সফট ড্রিংকস পাউডার, লবণ, বিস্কুট ইত্যাদি পণ্যের নমুনা।

সম্প্রতি বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. তাহের জামিল রমজান সামনে রেখে বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুন সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। প্রতি বছরের মতো পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে আগামী জুন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে খাদ্যপণ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যের ওপর সার্ভিল্যান্স বা মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ওই চিঠিতে গৃহীত কার্যক্রমের সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মহাপরিচালকের বরাবর পাঠাতেও অনুরোধ জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা থেকে চিঠি পাওয়ার পর থেকে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শিগগির আমরা তালিকাভুক্ত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করবো বাজার থেকে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি নিম্নমানের পণ্য, নকল, ভেজাল পণ্য পাওয়া যায় তবে মামলাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থ, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি আমরা।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে অনেক পণ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী উপকরণ বা প্যারামিটারগুলো সঠিক মাত্রায় পাওয়া যায়নি। মানোত্তীর্ণ না হওয়া পণ্যের নাম ও প্রতিষ্ঠানের নামসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে সতর্ক করা হয়। এর ফলে অনেক কোম্পানি তাদের পণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়। ব্যাপক জনসচেতনতাও সৃষ্টি হয়।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি ভেজাল হচ্ছে ঘি। সারা বছরের চাহিদার বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায় রমজানে। তাই আগেভাগেই নগরের বিভিন্ন বস্তি ও শহরতলী এলাকায় ঘরভাড়া করে ভেজাল ঘি তৈরি করে একটি চক্র। বিএসটিআইকে নমুনা তোলার ক্ষেত্রে ঘি’র ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ভেজাল ঘি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

তিনি বলেন, পাশাপাশি লাচ্ছা সেমাই, মরিচ, হলুদের গুঁড়া, আয়োডিনহীন লবণ, ভেজাল ভোজ্যতেলের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ওজনে কারচুপি, সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দিতে রমজানের মাসখানেক আগে থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

বাঁশ বাজারের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

Share the post

Share the postমাহমুদুল হাসান স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম বিভাগঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার শতবছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বাজারের পুরাতন বাঁশ বাজারের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ব্যবসায়ীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে আনন্দ বাজার মাছ ও শুটকি মহালের সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমানের […]

আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় পুজা উদযাপনে কোনো হুমকি নেই, অধিনায়ক ২৫ বিজিবি

Share the post

Share the postমাহমুদুল হাসান স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম বিভাগঃসীমান্ত এলাকায় পুজা উদযাপনে কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাব্বার আহমেদ। তিনি মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ায় পুজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সম্প্রীতি বজায় রেখে সীমান্ত এলাকার মণ্ডপগুলোতে পুজা হচ্ছে। বিজিবি তৎপর আছে। নির্বিঘ্নে পুজা উদযাপনে […]