ছাতক থানায় হামলার ঘটনায় ১০০০হেফাজত কর্মীকে আসামী করে মামলা করল পুলিশ
আল হাবিব, সুনামগঞ্জ: নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার রিসোর্ট থেকে কেন্দ্রীয় হেফাজত যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে আটকের জের ধরে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের স্থানীয় হেফাজত অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি থানা ও কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। রোববার (০৪ এপ্রিল) বিকালে ছাতক থানার উপ পরিদর্শক আনোয়ার মিয়া বাদী হয়ে ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত পরিচয়ে আরো ৯০০ জনকে মামলার আসামি করে ঐ মামলা দায়ের করেন। ইতি মধ্যে মামলার এজাহার ভুক্ত ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকৃতরা হলেন, ছাতক উপজেলার ইসলাম পুর ইউনিয়নের গণেশপুর ছড়ারপার গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন (২২), বাহাদুর পুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন(২১), সুমন আহমেদ (১৯), মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম(১৯), আলী হোসেন (১৮), রাজন আহমদ (২২), একরাম হোসেন (২০), জনি আহমদ (১৯), আবুল হোসেন (৩০)। মামলা দায়েরর বিষয়টি ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ঐ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কে রোববার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, হেফাজতের ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারায়নগঞ্জে আটক করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে ছাতক পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। এক পর্যায়ে পৌর শহরের দোকানপাট ও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। হামলায় থানা ভবনের সেবা চত্বরের গোলঘর ও অন্তত চারটি দোকান ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইট-পাথরের আঘাতে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই আনোয়ার মিয়া, এসআই সামছুল আরেফিন, কনস্টেবল রাকিব উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, দিলশাদ মিয়া, রবিউল আলম ও সুবল দাস। আহত পুলিশ সদস্যরা ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৬ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ১০৮ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলায় থানার গোলঘর ও শহরের চারটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

