করোনা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে সরকার, ১৮ দফা নির্দেশনা
করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আবারো কঠোর অবস্থানে গেল সরকার। সোমবার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারের পক্ষ থেকে ২ সপ্তাহের জন্য ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সকলকে সতর্কতার সাথে এসব নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হল:
১. সকল ধরনের জনসমাগম (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় ও অন্যান্য) সীমিত করা। উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা। বিয়ে/জন্মদিনসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা।
২. মসজিদসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিতকরণ।
৩. পর্যটন/বিনোদন কেন্দ্র/সিনেমা হল ও থিয়েটারে জনসমাগম সীমিত করা এবং সকল ধরনের মেলা আয়োজন নিরুৎসাহিত করা।
৪. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক যাত্রী পরিবহন না করা।
৫. সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত, প্রয়োজনে বন্ধ রাখা।
৬. বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক (হোটেলে নিজ খরচে) কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতকরণ।
৭. নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা/উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনপূর্বক ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ। ওষুধের দোকানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা।
৮. স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাস্ক পরিধানসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করা।
৯. শপিংমলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা।
১০. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
১১. অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা/আড্ডা বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০ টার পর বাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ।
১২. প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরিধান না করলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
১৩. করোনায় আক্রান্ত/করোনার লক্ষণযুক্ত ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা।
১৪. জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা। গর্ভবতী/ অসুস্থ/ ৫৫ ঊর্ধ্ব বয়সী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
১৫. সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
১৬. সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যে কোনো ধরনের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করা।
১৭. হোটেল-রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
১৮. কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং অবস্থানকালে সর্বদা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করা।

