ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যথাযথ মর্যাদা পালিত হয়েছে।
উচহ্লা মারমা,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: পার্বত্য বান্দরবানে লামা উপজেলায় ফাইতং ইউনিয়নের ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশাল র্যালী ও আলোচনার সভা আয়োজন করেন ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ অংঙ্গসংগঠন গুলো। এতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের অঙ্গসংগঠনে নেতাকর্মীগণ যোগদান করেন।
আজ ২৬ শে মার্চ ২০২১ ইং তারিখে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অংঙ্গসংগঠনগুলো পক্ষ থেকে সকাল ৭ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ ও প্রেরণা ৭১ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় নেতৃত্ব দেন ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানীত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন কোম্পানি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মানীত সভাপতি মো: হেলাল উদ্দিন বিএ, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক,সহ-সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড এম ইউপি মো: শহিদুল্লাহ ইসলাম মিন্টু, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদুর রহমান শুক্কুর, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি থোয়াইসানু মারমা, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন রিজু সহ ইউনিয়ন এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মী এর অংশগ্রহনে শহীদ বেদীতে পুস্প স্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় সভাপতি জনাব মো: হেলাল উদ্দিন বিএ মহান এ জাতীয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন-
আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিল একটি ভূ-খণ্ড, যার নাম বাংলাদেশ। সবুজ জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এ দেশটির স্বাধীনতার অর্জনের ৫০তম পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তি এব বার্ষিকী আজ।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ বছরটি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বছরো। এবার তাই উদযাপনে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এর সঙ্গে আরেকটি নতুন পালন যোগ হয়েছে- স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ।
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা যোগ্যতা নির্ধারণের তিনটি সূচকে ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে মান অর্জন করায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ পায় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সম্প্রতি এ সুপারিশ করে।
প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সুপারিশ করার এই ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মিল আছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে- দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামের উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের যে তুলনা দেয়া হয়েছে তার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই দেশগুলোও রফতানিভিত্তিক উন্নয়নের পথে হেঁটে আজ এত দূর গিয়েছে। আধুনিক ইতিহাসে দেখা গেছে, রফতানিমুখী উন্নয়নের বদৌলতে অতি নিম্ন আয়ের দেশও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সফল অর্থনীতি হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রাপ্তি নিয়েই এবার জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে।
অনেক প্রাপ্তি নিয়েও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবার উদযাপিত হবে অন্যরকমভাবে। এমন একটি সময়ে উদযাপন হবে, যখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) থাবা। এর মধ্যেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এ অনুষ্ঠান।
একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের উপর অতর্কিত হামলা চালালে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে।
সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু এবং যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সময় বাস্তবতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয় ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে এ ঘোষণা দেন তিনি, যা তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টের (ইপিআর) ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

