রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের ঘটনায় আরো ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো এগারো।এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন পার করছেন ঘর হারানো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে আগুনে পুড়েছে অন্তত ১০ হাজার ঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। আশ্রয় হারিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। উখিয়ার বালুখালীর ৮ ও ৯ নম্বর ক্যাম্পে পুড়ে গেছে সব কটি ঘর। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের ৩টি ক্যাম্পের বেশ কিছু ঘর।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন আজ সকালে জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত দুই শিশু সহ ৭ জন রোহিঙ্গা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করা হলের পরে বিকালে এক প্রেসব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মহসিন আরও ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেন। এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জনে দাড়িয়েছে।
এদিকে আইএসসিজি এর কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ তাফহিম জানিয়েছে, কুতুপালং বালুখালী ক্যাম্প ভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তৈরি একটি শিটের হিসাব অনুসারে বালুখালির ক্যাম্প ৮-ইতে ঘরের সংখ্যা ৬ হাজার ২৫০ আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭২ জন, ৮-ডব্লিউ ক্যাম্পে বাড়ি ৬ হাজার ৬১৩টি আর লোকসংখ্যা ৩০ হাজার ৭৪৩ জন, ক্যাম্প ৯-এ বাড়ি ৭ হাজার ২০০ টি আর লোকসংখ্যা ৩২ হাজার ৯৬৩ জন এবং ক্যাম্প ১০-এ বাড়ি ৬ হাজার ৩২০টি আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৭০৯ জন। তিনি উল্লেখ করেন অগ্নিকাণ্ডে এই চারটি ক্যাম্পের অধিকাংশ ঘর ক্ষতিগ্রস্হ হয়।
সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগের ঠাই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।
সোমবার বিকেলে লাগা আগুন সাড়ে ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় রাতে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনের তাণ্ডবের পর নতুন করে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা। নিজের বসতঘরের ভিটেমাটিতে নতুন করে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা বলেন, আগুন লাগার পর আসতে আসতে দেখি সব শেষ। ছাদ পুড়ে গেছে। ত্রিপল দিয়ে আছি। আপাতত কোনোভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছি। শুধু পানি খেয়ে আছি।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শিশু। তাদের সন্ধানে কাজ করছে এনজিও সংস্থা।
কক্সবাজার ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম বলেন, তাদের আপাতত থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে স্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও করা হবে।
ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয় হারানো রোহিঙ্গাদের দেয়া হবে সব ধরনের সহায়তা।
অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হরেছে বলে জানান চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। অগ্নিকান্ড পুড়ে যাওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প আজ সকালে পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

