সব হারিয়ে নিঃস্ব সাড়ে ৯ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বিশাল এলাকা জুড়ে শুধুই ধ্বংসস্তুপ। আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে ১১টি প্রাণ, নিঃস্ব করে দিয়েছে সাড়ে ৯ হাজার পরিবারের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে। এখন এদের বেশিরভাগেরই ঠিকানা খোলা আকাশের নিচে।
সব হারিয়ে মানবেতর দিন কাটছে ওই মানুষগুলোর। ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে ৭ সদস্যে কমিটি।
মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ মহসিন জানান, আগুনের তাণ্ডবে প্রাণ গেছে ১১ জনের, আহত ২ হাজারের বেশি। পুড়েছে কয়েকশ দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ প্রায় ১০ হাজার বসতঘর। সব হারানো এসব মানুষের সহায়তায় জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রধান করে ৭ সদস্যের কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে গৃহহীন রোহিঙ্গাদের অনেকে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পে আগুন দিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চান তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সেটি পরিকল্পিত কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় প্রশাসন।
এছাড়া মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৬ শিশুসহ ১১ জনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। নিহত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সলিম উল্লাহ (৫৫), রফিক আলম (২৫), আবদুল্লাহ (৮), আসমাউল (৭), মিজানুর রহমান (৪), বশির আহমদ (৬৫), খতিজা বেগম (৭০), মো. একরাম (৩), এমদাদ উল্লাহ (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। একপর্যায়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে শিবির লাগোয়া ৮-ডব্লিউ ও এইচ, ৯ ও ১১ নম্বর শিবিরেও। সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর কর্মীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ পালিয়ে আশ্রয় নেন আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে আসেন আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ। এর মধ্যে উখিয়ার ২৩টি আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা আছে প্রায় ৯ লাখ।

