৭৫ পরবর্তী কোনো সরকারই ভাষার উন্নয়নে কাজ করেনি
৭৫ পরবর্তী কোনো সরকারই ভাষার উন্নয়নে কাজ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিজ্ঞান গবেষণা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সরকার এসেই গবেষণায় বাজেট বাড়িয়ে দেয়।
প্রধান মন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিজ্ঞান গবেষণায় বরাদ্দ বাড়িয়েছে দেখেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।ভাষাকে সহজে মানুষের ব্যবহারের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিলো। তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন প্রবাসী বাঙালি সালাম এবং রফিক অন্য কতগুলো ভাষাভাষীদের কে নিয়ে ভালোবাসি মাতৃভাষাকে নামে একটি সংগঠন করেছিল। তার মাধ্যমেই একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পেশ করেছিল জাতিসংঘে।
তবে এ প্রস্তাব কোনো একটি প্রতিষ্ঠান করলে হবেনা সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রস্তাব আসতে হবে বলে জানায় জাতিসংঘ। তখন আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তাব পেশ করে। পরবর্তীতে ইউনেস্কোর সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ভোটে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে বলে প্রধান মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
১৯৯৯ সাল থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু আমাদের শহীদ দিবস নয় বরং সমগ্র বিশ্বের মাতৃভাষা-ভাষীদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিবস। যার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশ এ দিবসটি পালন করে এবং এটা বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বলে মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।
এসময় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের এগিয়ে যাওয়ার ধারা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। ই-প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণ ও মর্যাদা রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি।
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাই এখন মোবাইলে এসএমএসসহ নানা সেবায় বাংলা লিখতে পারে। যা নিরক্ষরতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেছেন,ক নৃগোষ্ঠীদের ভাষা ও বর্ণমালাকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষার জন্য ২০১৭ সাল থেকে তাদের ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তন করেছি। এ বছর নৃগোষ্ঠীদের ৩৩ হাজার বই দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক প্রবর্তন করেছি। প্রতি দু-বছর পর পর এ পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাষা গবেষকদের ফোলোলিশ ও বৃত্তি দিচ্ছি বলেও উল্লেখ করেন তিনি তার বক্তব্যে।

